• ঢাকা বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫

টর্নেডোর আঘাত মাটিতে মিশে গেছে ঈদ আনন্দ

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী
|  ১৩ জুন ২০১৮, ১৯:২৫ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ১৯:৪১
আর দু’দিন পরই ঈদ। কিন্তু মাটিতে মিশে গেছে পটুয়াখালীর ১৩৮টি পরিবারের ঈদ আনন্দ। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারদের এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে এসব পরিবাররা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। 
গেলো রোববার ও সোমবার জেলার পর্যটন নগরী কুয়াকাটার দু’টি গ্রাম, গলাচিপার ৪টি গ্রাম ও রাঙ্গাবালী উপজেলার ৪টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড ও তছনছ করে দিয়েছে ওইসব পরিবারদের সাজানো সংসার। দেখা দিয়েছে খাদ্য, বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানিরও তীব্র সংকট। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারদের ভাগ্যে এবারের ঈদের আনন্দ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। 

টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পান এবং ঈদের আনন্দ থেকে তারা যেন বঞ্চিত না হন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সকলেই।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
--------------------------------------------------------

চলতি মৌসুমে প্রথম দফা টর্নেডো আঘাত হানে ১০ জুন রাতে পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায়। ওইদিন দেড় মিনিটের স্থায়ী টর্নেডোতে কুয়াকাটা পৌর শহরের হুসেনাপাড়া ও পাঞ্জুপাড়া এলাকার অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং উপচে পড়ে বহু গাছপালা। আহত হন অন্তত ১০ জন। এর পরদিনই ১১ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে টর্নেডো আঘাত হানে জেলার গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলায়। 

মাত্র ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী টর্নেডোতে এ উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের তুলাতলী, সেনের হাওলা ও গ্রামর্দন এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের অর্ধশত ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাজানো সংসার। ঠিক একই দিন রাত ৯টায় টর্নেডো আঘাত হানে রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চতলাখালী, তিল্লা ও নয়াভাংগুনি এবং বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ফেলাবুনিয়া গ্রামেও। 

মাত্র দুই মিনিট স্থায়ী টর্নেডোর আঘাতে এসব গ্রামগুলো তছনছ হয়ে যায়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব গ্রামের লোকজন পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ কেউ বর্তমানে খোলা আকাশের নিচেও রয়েছেন।

গলাচিপার বোয়ালিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জয়নব বেগম বলেন, ‘টর্নেডোতে ঘরবাড়ি হারাইয়া মোরা অ্যাহোন নিঃস্ব হইয়া গ্যাছি। থাল-বাসুন, চাউল-পাতি কিছুই নাই, হগোল বাতাসে উড়িয়ে লইয়া গ্যাছে। মোগো এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নাই। পোলাপান লইয়া এবার ঈদের আনন্দও কপালে সইলো না’। 

একই এলাকার মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘টর্নেডো এই গ্রামটা শেষ করে ফেলেছে। একদিকে রোজা, অন্যদিকে দুইদিন পর ঈদ। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জানি না আমাদের এ গ্রামের লোজনদের ভাগ্যে ঈদের আনন্দ আছে কি-না?    

কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর তোফায়েল আহমেদ তপু আরটিভি অনলাইনকে বলেন, টর্নেডোর আঘাতের দৃশ্যগুলো খুবই মর্মান্তিক। ঘরগুলো উড়িয়ে নিয়ে অন্য জায়গায় ফেলে দিয়েছে। যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সব হারিয়ে এসব লোকজন অসহায়ের মত দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো উচিত আমাদের সকলের। 

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, আমাদের সাধ্যমত টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পৌরসভার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, টর্নেডোতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের সর্বাত্মক ব্যবস্থা ও সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন :

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়