• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

মন্দিরের আগুন প্রতিহত করলো মুসলমানরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট, নেত্রোকেনা
|  ০৫ নভেম্বর ২০১৬, ১২:৩৫ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:০৯
নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই নদীরপাড় এলাকায় ‘একতা সংঘ’ কালী মন্দিরে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুন হিন্দুদের পাশাপাশি প্রতিহত করেছে স্থানীয় মুসলিমরা। এ সময় একজনকে আটক করা হয়। সুমন নামের ওই যুবকের বাড়ি নরসিংদী।

শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে গেছে আরো ৪ জন।  

মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ সরকার যিশু জানান, ভোরে মন্দিরের সামনে দিয়ে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল বিরাজ নামের স্থানীয় স্কুলছাত্র। সে দেখতে পায়, মন্দিরের ভেতর একজন ও বাইরে ৪ জন দাঁড়িয়ে আছে। তাদের কাছে কারণ জিজ্ঞাস করলে বাইরের লোকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

বিষয়টি সন্দেহ হলে যিশুর বাসায় গিয়ে বিরাজ খবর দেয়। এরপর ছেলেসহ মন্দিরে যান যিশু। গিয়ে দেখেন, আগুন জ্বলছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নিভিয়ে ফেলা হয় আগুন। ধাওয়া দিয়ে আটক করা হয় দুর্বৃত্ত সুমনকে।  

অনিমেষ জানান, আগুনে মন্দিরের বেশ ক্ষতি হয়েছে। শিব প্রতিমার চুল ও কাপড় পুড়ে গেছে। কালী প্রতিমার চূড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুড়ে গেছে মন্দিরের নিচের অংশের কাপড়ও।

আগুন প্রতিহত করতে আসা স্থানীয় ইসলাম উদ্দিন ও আরিফ আরটিভিকে বললেন, বহুবছর ধরেই সম্প্রীতির বন্ধনে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করে আসছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবসহ পারিবারিক উৎসবেও একে অপরকে সহযোগিতা করে থাকি। ঠিক তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ও এগিয়ে আসে আমাদের আনন্দ-উৎসবে। তাই তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় মন্দিরে কেউ হামলা করলে তা প্রতিহত করাও আমাদের দায়িত্ব।

এদিকে খবর পেয়ে নেত্রকোনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারাও। পরে পুলিশ আটক হওয়া জাহাঙ্গীরকে থানায় নিয়ে যায়।

গেলো ২৮ অক্টোবর রসরাজ দাস নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। এর উত্তাপ ছড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়