যুগ যুগ ধরে একটি ব্রিজের স্বপ্নে ১০ গ্রামের মানুষ

প্রকাশ | ১১ জুন ২০১৮, ১৫:০৪

আবুল কালাম আজাদ, পাবনা

পাবনা সদরের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের ব্যাপক ছোয়া লাগলেও সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কামারডাংগা-চরপাড়া সংলগ্ন ছোট নদীর উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে ১০ গ্রামের মানুষ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। 
 
১০ গ্রামের এই মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই বাঁশের সাঁকো। রাজনীতিবিদসহ এ এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এ নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের।

পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কামারডাংগা, চরপাড়া, ঢালিপাড়া, মোল্লাপাড়া, দাসপাড়া, বেড়পাড়া, মুন্সীপাড়া, ফারাদপুর, তেলিগ্রাম, নন্দনপুর ও শাঁখারী পাড়ার জনগণ নদীতে ব্রিজ না থাকায় ১ হাজার ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো দিয়েই রাত-দিন যাতায়াত করে। 

এ এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুরসহ সবাই এই ব্রিজ না থাকায় কষ্টে আছেন। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে। 

এছাড়া বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার স্বীকার হয় দুবলিয়া হাজী জসিম উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ, ফজিতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুবলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষার্থীরা। 

লেখাপড়া করার জন্য প্রতিদিন এই সাঁকোর উপর দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হয়। এ কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। মাঝে মাঝেই শিক্ষার্থীদের হাত থেকে পানিতে ছিটকে পড়ে বই। 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা নিজেদের সামলাবেন নাকি স্কুলের ব্যাগ আর বই ধরবেন। 

এদিকে, মাঠ থেকে কৃষি পণ্য ঘরে তুলতে যাবতীয় মালামাল পারাপার করতে হয় এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে, যা একজন কৃষকের জন্য অনেক কষ্টের কাজ। বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচলের সময় অনেক কৃষকই পড়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ খান বলেন, অনেক লোক কষ্ট করে এই সাঁকো পার হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এই বাঁশের সাকোর ওপর দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। মানুষ যেন মুক্তি পায় এই দুর্ভোগের হাত থেকে।

জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, ওই জায়গাটি বা ঐ সড়কটি এলজিইডি’র আওতাভুক্ত নয়। সড়কটি এলজিআই এর। এলজিইডি এবিষয়ে এখনো কোনো প্রস্তাবনা পায়নি। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে কোনো প্রস্তাবনা পেলে এলজিইডি প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

এলাকাবাসী চান তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এখান থেকে সরে যাবে বাঁশের সাঁকো। নির্মাণ করা হবে ব্রিজ। 

এসএস