• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

হাতিয়া-নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-যোগাযোগ

হাতিয়া প্রতিনিধি
|  ১০ জুন ২০১৮, ২০:২০
ঈদ এলেই সরকার নৌ পারাপারের ওপর তদারকি বৃদ্ধি করে। ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক থাকা, বছরের অন্য সময়ের চেয়েও দুটি ঈদে সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর খুব সজাগ থাকে। কিন্তু নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মূল ভু-খণ্ডের সাথে নৌ-যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক দুটি না থাকায় এ রুটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে নদী পারাপার হতে দেখা যায়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ঈদকে সামনে রেখে এখানে সরকারের বিশেষ কোনও তদারকি নেই বললেই চলে। প্রতিদিনই যাত্রীরা ছোট ছোট নৌযানে নদী পার হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ছোট নৌযানে নদী পারাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে কেউ তা মানছেন না।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট নৌ-রুটে সি-ট্রাক চলাচলকারী একমাত্র সি-ট্রাক শেখ ফজলুল হক মনি গত ১৪ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি)। ফলে এই রুটে জেলা সদরে যাতায়াতকারী দ্বীপের বাসিন্দারা সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। যাদের অনেকে বাধ্য হয়ে উত্তাল নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া থেকে জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য দুইটি সি-ট্রাক রয়েছে। এর একটির নাম আবদুর রব সেরনিয়াবাত, যেটি হাতিয়ার চরচেঙ্গা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে চলাচল করতো। আর অপর সি-ট্রাকটি হলো শেখ ফজলুল হক মনি। এটি চলাচল করতো হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌ-রুটে। এই দুইটি রুটে সি-ট্রাকে চড়ে গড়ে প্রতিদিন দেড়-দুই হাজার যাত্রী হাতিয়া যাতায়াত করতেন। এখন তাঁদের বেশিরভাগই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে যাতায়াত করছেন।

বিআইডব্লিউটিসির সার্টার এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, চরচেঙ্গা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে চলাচলকারী আবদুর রব সেরনিয়াবাত নামের সি-ট্রাকটি যান্ত্রিক ত্রুটি সারাতে সাড়ে চার মাস আগে বিআইডব্লিউটিসির নারায়ণগঞ্জ ডক-ইয়ার্ডে পাঠানো হয়, যা অদ্যাবধি মেরামত হয়ে আসেনি। এই সময় ওই রুটের যাত্রীদের বেশিরভাগই নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে চলাচলকারী সি-ট্রাক শেখ ফজলুল হক মনির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁদের শেষ ভরসাটুকুও বন্ধ হয়ে যায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ সি-ট্রাক শেখ ফজলুল হক মনির চলাচল বন্ধ করে দেন। কবে নাগাদ এই দুটি সি-ট্রাক পুণরায় সচল হবে তা বলতে পারছেনা সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে হাসপাতালের জরুরি ওষুধ, ডাক বিভাগের রাষ্ট্রীয় ডাক, বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি যন্ত্রপাতি সবই সি-ট্রাক চলাচলের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ তিনটি বিভাগের সকল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. নাজিম উদ্দিন জানান, সি-ট্রাক না থাকায় জরুরি ওষুধপত্র আনা যাচ্ছে না। শুধু অক্সিজেন এর বোতল ট্রলারে এনে নামমাত্র চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি, ঢাকার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ মোহাম্মদ নাছিম বলেন, নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট রুটে চলাচলকারী সি-ট্রাক শেখ ফজলুল হক মনির তলার অবস্থা খুবই খারাপ। পানিতে নষ্ট হয়ে সি-ট্রাকের তলার বিভিন্ন জায়গায় ছিদ্র হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বর্তমান বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সি-ট্রাকটি নদীতে যাত্রী পরিবহন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জানমালের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সি-ট্রাকটি চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ নাছিম আরও বলেন, আবদুর রব সেরনিয়াবাত নামের সি-ট্রাকটি ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ডক-ইয়ার্ডে আনা হয়েছে, সংস্থার প্রকৌশল বিভাগ সেটি মেরামত করছে।

সি-ট্রাকের সার্টার এজেন্ট গোলাম মাওলা কাজল বলেন, আবদুর রব সেরনিয়াবাত নামের সি-ট্রাকটি সাড়ে চার মাস আগে নারায়ণগঞ্জের সোনাচোরা ১ নম্বর ডক-ইয়ার্ডে নেয়া হয়। অদ্যাবধি সি-ট্রাকটির মেরামত শেষ হয়নি। এরই মধ্যে শেখ ফজলুল হক মনি নামের সি-ট্রাকটিও মেরামতের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাও মেরামতের কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়