• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

আদালতের আদেশ অমান্য করে বিলের পাড় নির্মাণ!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
|  ০৭ জুন ২০১৮, ১৫:৩৫ | আপডেট : ০৭ জুন ২০১৮, ১৫:৪২
আদালতের আদেশ অমান্য করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজরার বিলের পাড় নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া ওঠেছে। এবিষয়ে মৎস্য বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানালেও কাজ বন্ধ করা হয়নি।

মামলার বিবাদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিলের পাড় নির্মাণ কাজ বন্ধের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করার মামলা দায়ের করেন শ্যামল চন্দ্র দাস নামের এক মৎস্যজীবী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের আজরার বিলের ৩.২৩ হেক্টর জমির পাড় নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে মৎস্য বিভাগ। ১৮ হাজার ১২৫ ঘনমিটার মাটি কাটার জন্য ব্যয় ধরা হয় ১৮ লাখ টাকা। কার্যাদেশ দেয়া হয় চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল। এই পাড় নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি পান সাইফুল ইসলাম তুহিন নামের এক ঠিকাদার। বিলের জমির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩ একর ১৯ শতক জমি দখল করে পাড় নির্মাণ করা হচ্ছে দাবি করে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়ে পলাশবাড়ী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন একই ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মৎস্যজীবী শ্যামল চন্দ্র দাস। যার মামলা নম্বর ১৪/১৭ (অন্য)।

মামলায় মনোহরপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বিবাদী করা হয়। আদালত শুনানি শেষে গত ২৫ মার্চ বিলের পাড় নির্মাণের কাজে স্থিতি করার আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়, বাদীর ভোগদখলের জমিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে বা জমির আকার-আকৃতির পরিবর্তন করতে না পারে তার জন্য উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল। এই আদেশের কপি বিবাদীরা ২৮ মার্চ হাতে পান। তারপরও আদালতের আদেশ অমান্য করে আজরার বিলের পাড় নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন।

আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করার অভিযোগে শ্যামল চন্দ্র দাস একই আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি সহিংসা ৩৯ আদেশের ১/২ নং বিধি এবং ৫১ ধারায় আবারও মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ১০/১৮। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার ৩০ এপ্রিল এই বিলের পাড় নির্মাণের কাজ শেষ করেন।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সদ্য নির্মাণ করা আজরার বিলের পাড় ধ্বসে যাওয়ায় তার মেরামত কাজ করছে শ্রমিকরা। সেখানে দাড়িয়ে আছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম তুহিন। আদালতের আদেশ অমান্য করে কাজ করছেন কেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমি মামলার বিষয়ে কিছু জানি না। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে বিলের পাড় ভেঙে যাওয়ায় তা মেরামত করছি।     

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুদ দাইয়্যান বলেন, যেহেতু মামলায় মৎস্য বিভাগকে বিবাদী করা হয়নি। তাই বিলের পাড় বাঁধার কাজ যথাসময়ে শেষ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে পাড় ধ্বসে যাওয়ায় তা ঠিকাদারের কাছ থেকে মেরামত করে নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, মামলা করার বিষয়টি আমি মৎস্য বিভাগ ও ঠিকাদারকেও জানিয়েছি। এরপরও তারা আদালতের আদেশ অমান্য করে বিলের পাড় বাঁধার কাজ অব্যাহত রাখেন।

 অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রোখসানা বেগম আদালতের স্থিতি অবস্থার আদেশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি এ ব্যাপারে মিডিয়ার সামনে কিছু বলতে পারবো না। আপনারা জেলা প্রশাসকের কাছে যান।

জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, আদালতের আদেশের বিষয়টি কর্মকর্তারা কেন আমলে নেননি তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়