• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

স্কুল বন্ধ, বন্ধ নেই কোচিং বাণিজ্য

মো. আবুল হোসেন সরদার,শরীয়তপুর
|  ০৪ জুন ২০১৮, ১২:৩৩ | আপডেট : ০৪ জুন ২০১৮, ১২:৪৩
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলা সদরের বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। রমজানে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরেও কতিপয় শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চালিয়ে যাচ্ছেন জমজমাট কোচিং বাণিজ্য। 

শিক্ষকরা বলছেন রমজানের বন্ধে শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার চর্চা থাকার জন্য পড়ানো হচ্ছে। তবে প্রধান শিক্ষক বলছেন স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক কোচিং করায়। এরা আমার কথা মানছে না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ডামুড্যা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক রমজানে বিদ্যালয় বন্ধের সুযোগে শ্রেণিকক্ষেই কোচিং বাণিজ্য শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে সাগর ইংরেজি, গৌরসুন্দর গণিত, শফিকুল ইসলাম গণিত, অমৃত ধর গণিত, রথীন্দ্র কান্ত মিস্ত্রি কৃষি, সোলায়মান কবীর ইংরেজি, মোক্তার হোসেন অপু গণিত পড়াচ্ছেন। তারা ৮ম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরকে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই কোচিং করে থাকেন। কোনো কোনো শিক্ষক আবার বলছেন প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই কোচিং করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন আজকে থেকেই পড়ানো শুরু করেছি। আবার কেউবা শুধুমাত্র এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন বলে দাবি করছেন। এমনিভাবে তারা সারা বছরই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বদাই কোচিং বাণিজ্য করে আসছেন। এসব কারণে তারা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ভালোভাবে পড়াশোনা করান না। প্রাইভেট পড়ানো একটা নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সবচেয়ে উঁচু গাছে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে ছাত্রের মৃত্যু
--------------------------------------------------------

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির লোকজনও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিজন শিক্ষকের কক্ষে কমপক্ষে ১৫ থেকে ৩০ জন করে ছাত্রছাত্রী কোচিং করছে। তবে এ সকল শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় শিক্ষক। বিদ্যালয়ের মধ্যে কোচিং করার বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ সকল শিক্ষকরা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না। তাই প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া।  

এ ব্যাপারে ডামুড্যা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন,  প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই কোচিং করাচ্ছি।

শিক্ষক গৌর চন্দ্র আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রমজানের বন্ধে লেখা-পড়ার চর্চা রাখার জন্যই কোচিং করাচ্ছি।

শিক্ষক সাগর আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রমজানের বন্ধ পেয়ে এসএসসির অল্প কয়েক জনকে পড়াচ্ছি। ছাত্র-ছাত্রীরা অনুরোধ করেছে তাই পড়ানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার কর্মকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমি বারবার নিষেধ করেছি। এরা স্থানীয় শিক্ষক বিধায় আমার কথা মানছেন না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম ফকির আরটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি সাপেক্ষে সরকারি নির্ধারিত ফি জমা নিয়ে করলে দোষ নেই। তবে সরকারের ফি না নিয়ে এবং প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া হলে বিধিসম্মত নয়। বিষয়টি আমি দেখব।

আরও পড়ুন :

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়