• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বড়পুকুরিয়ায় অনির্দিষ্টিকালের অবরোধে ৪৭৫ কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০২ জুন ২০১৮, ২২:২৮ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৮, ২২:৪৪

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আন্দোলনরত শ্রমিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রামের মানুষের অনির্দিষ্টকালের অবরোধে ৪৭৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ১৩ দফা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রামের মানুষের সমন্বয় কমিটি ৬ দফা দাবিতে শনিবার সকাল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ গেটে অবস্থান নিয়ে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে।

এতে খনির ভেতরে আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের ৩০০ চীনা এবং ১৭৫ বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, চুক্তি অনুযায়ী রেশন, সাপ্তাহিক ছুটি ও বোনাস দেয়ার কথা থাকলেও গত ৯ মাস থেকে শ্রমিকদের এসব দেয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এই আন্দোলন করতে হচ্ছে।

গ্রামবাসীদের সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বুলবুল বলেন, আমাদের জায়গা-জমি খনিতে মিশে গেছে। অথচ আমাদেরকে বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাই এই আন্দোলনে নেমেছি আমরা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বরগুনায় পানিতে ডুবে ২ বোনের মৃত্যু
--------------------------------------------------------

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন বলেন, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের হয়ে শ্রমিকরা কাজ করেন। তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা দেবে কিনা সেটা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়। কিন্তু বারবার আমাদের জিম্মি করছে শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩ দফা দাবিতে ও ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রামের মানুষ ৬ দফা দাবিতে ধর্মঘট কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়। এরপর গত ৩০ মে তারা জানায়, ০১ জুনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে শনিবার (২ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

এদিকে গত ১৫ মে সকালে খনির ভেতরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এই ঘটনায় খনি কর্তৃপক্ষ দুটি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে একটি মামলা করা হয়।

খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোস্তফা কামালকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটি গত ২৬ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের অনুরোধ জানায়। কিন্তু শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি।

আরও পড়ুন : 

কে/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়