• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

মানিকগঞ্জে এক মণ ধানের দামেও মিলছে না ১ জন শ্রমিক

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ
|  ৩১ মে ২০১৮, ১৫:৫৩ | আপডেট : ৩১ মে ২০১৮, ১৭:৪৫
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। নতুন ধানের স্বপ্নে আনন্দের পরিবর্তে বিষাদে ছেয়ে আছে কৃষকের মুখ। কারণ এ উপজেলায় চরম শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময় মতো ধান কাটতে পারছে না অনেক কৃষক। কৃষকদের এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা গতবারের তুলনা প্রায় ১০০ হেক্টর বেশি। এবার ফলনও হয়েছে বাম্পার। হেক্টর প্রতি গড়ে ৬ থেকে ৮ মেট্রিক টন করে ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এবছর মানিকগঞ্জে ও ঘিওরে আবাদকৃত বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে, উফশি। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ব্রিধান-২৯ ও ব্রিধান-২৮। এছাড়া আবাদ করা হয়েছে উন্নতমানের জাত ব্রিধান-৫৮। 

জান যায়, বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কিন্তু জনপ্রতি শ্রমিকের মজুরী দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। সঙ্গে দুই বেলা খাবার। এতে গৃহস্থের শুধু ধান কাটাতেই প্রতি মণে খরচ পড়ছে ৮০০ টাকার মতো। জমি চাষ, সেচ, চারা, সার, কীটনাশক ক্রয় খরচতো আছেই। 

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শ্রমিকসহ নিহত ৪
--------------------------------------------------------

এদিকে ধানের ফলন ভাল হলেও বর্গাচাষিদের তো মাথায় হাত। তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। সরজমিন ঘিওর উপজেলার কেল্লাই এলাকার চকে গিয়ে দেখা যায়, মোন্নাফ মিয়া নামে স্থানীয় এক কৃষক পাঁচ/ছয়জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটছেন। তিনি একজন বর্গাচাষি। নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। অন্যের কাছ থেকে তিনি ২৪০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করেছেন। 

তিনি জানান, ধান কাটার শ্রমিকদের অনেক টাকা দিতে হয়। মাথা পিছু শ্রমিকদের দেয়া লাগছে ৬শ’ টাকা। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি এলাকায় কমবেশি বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের কৃষক কবির খান জানান, আমি এবার ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। বাজারে ধানের চাহিদা ও বাজারে মূল্য কম থাকায় আমাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আমাদের প্রতি মণ ধান পেতে খরচ হচ্ছে ৮শ’ থেকে সাড়ে ৮শ টাকা। কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে এর থেকেও কম দামে। এরকম লোকসান হলে ভাবছি আর ধানের আবাদ করবো না।

এ ব্যাপারে ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান খান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বোরো আবাদের জন্য সবকিছুই অনুকূলে ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, সার, বীজ-কোনো কিছুরই সমস্যা ছিল না। পোকা-মাকড়ও আক্রমণ করতে পারেনি। এসব কারণেই ধানের ফলন ভাল হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বোরো ধানের দাম কম থাকায় আমরা কৃষকদের ধান ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। যাতে করে সংরক্ষিত ধান পরে বিক্রি করে তারা দামটা ভালো পায়।

আরও পড়ুন :

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়