• ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫

মরণফাঁদ শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক, সংস্কারে ধীরগতি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
|  ২৫ মে ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট : ২৫ মে ২০১৮, ১৮:৩৫

শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার পুরোটাই এখন বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে পরিপূর্ণ। অতিবৃষ্টির কারণে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার কার্যাদেশের পরও ধীরগতিতেই চলছে তা।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া বন্দর থেকে শুরু করে ভেদরগঞ্জ উপজেলার আলুর বাজার ফেরিঘাট পর্যন্ত এই মহাসড়কে প্রতিদিন খুলনা, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, বেনাপোল, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার ভারি যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়সহ ভুক্তভোগী যাত্রী, চালকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বছরের জানুয়ারিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তাটি মেরামতের জন্য ২টি প্যাকেজে মনোহরবাজার থেকে পাপরাইল এবং পাপরাইল থেকে নারায়ণপুর পর্যন্ত ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করে।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঠাকুরগাঁওয়ে বজ্রাঘাতে নিহত ২
--------------------------------------------------------

এরমধ্যে মনোহরবাজার থেকে পাপরাইল পর্যন্ত সড়কটির কাজে আরএবি-আরসি প্রাইভেট লিমিটেড এবং সরদার এন্টারপ্রাইজ মেইটরি-পিটিএলএস প্রাইভেট লিমিটেডকে নিয়োজিত করা হয়। এরপর ২৭ মার্চ প্রতিষ্ঠান দুটিকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করতে সময় বেধে দেয়া হয়।

পাপরাইল থেকে নারায়নপুর পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারে নিয়োজিত করা হয় শহীদ ব্রাদার্স এ অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। গত ১৮ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দিয়ে এবং আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়।

কার্যাদেশ পাওয়ার পর ২টি প্রতিষ্ঠানই কাজ শুরু করে। তবে সংস্কার কাজে ব্যবহৃত পাথরকুচি ও বালু সিমেন্টসহ যাবতীয় নির্মাণসামগ্রী অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ উঠেছে। দু’মাস পরও ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়নি। ইতোমধ্যে ১৫ কোটি টাকার আরও একটি প্যাকেজ দরপত্র আহবান করে নোয়া ইস্যু করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী আলী হায়দার একজন ট্রাকচালক বলেন, গত ১ বছর ধরে এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একটু দ্রুতগতিতে চালাতে গেলেই গাড়ি উল্টে যায়। সংস্কার কাজেও নেই গতি। আর এই কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।

বেনাপোল থেকে আসা সহিদুল ইসলাম খা নামের এক বাসচালক বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় নষ্ট হয়। কখন যেন দুর্ঘটনা ঘটে সেই আতঙ্কে থাকি। ঈদের সময় কী হবে জানি না।

আলুরবাজার ফেরিঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মো. আবদুস সাত্তার বলেন, রাস্তাটি এতই খারাপ যে অনেক যানবাহন এই রাস্তায় আসে না এখন। তাই রাজস্ব আদায় কমে গেছে। মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের  নির্বাহী প্রকৌশলী  মো. জাকির হোসেন বলেন, মহাসড়কটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। নিত্যনতুন দুর্ঘটনা ঘটছে। মেরামতের জন্য ৩ কিস্তিতে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই টাকায় মাত্র ২৭ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা যাবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করে দুটি কার্যাদেশ দেয়া হয়। বাকি একটি প্যাকেজ নোয়া ইস্যু করা হয়েছে। দ্রুতই কার্যাদেশ দেয়া হবে। বৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

আরও পড়ুন :

কে/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়