• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

রমজানে মুড়ি ভাজতে ব্যস্ত নারীরা

জয়নাল আবেদিন বাবুল, ঠাকুরগাঁও
|  ২১ মে ২০১৮, ১৩:০৮ | আপডেট : ২১ মে ২০১৮, ১৪:০৯
রমজান মাসকে ঘিরে মুড়ি ভাজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের নারীরা। চাল শুকানো আর মুড়ি ভাজতেই দিন পার করছেন তারা। দম ফেলানোর সময় নেই তাদের। হাতে ভাজা এ মুড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও চালের দাম বেশি হওয়ায় তেমন লাভ করতে পারছেন না তারা। এদিকে কেমিক্যাল মেশানো ভেজাল মুড়ি বাজার দখল করে নিচ্ছে। আর এতে  প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর, গিলাবাড়ি, মাতৃগাঁও এবং রানীশংকৈল উপজেলার কাতিহার গ্রামের ৪ শতাধিক পরিবার মুড়ি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এসব পরিবারের নারীরা মুড়ি তৈরি থেকে শুরু করে বিক্রি করা পর্যন্ত সব কাজ নিজেই করেন। প্রতিদিন সকালে শহরের বাসায়-বাসায় গিয়ে মুড়ি বিক্রি করে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসেন তারা। রমজান মাস আসলেই ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায় তাদের।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সীতাকুণ্ডে ওজন স্কেল ভাংচুরের ঘটনায় মামলা: দুদিনেও গ্রেপ্তার নেই
--------------------------------------------------------

এবার চালের দাম বেশি হওয়ায় মুড়ি বিক্রি করে তেমন লাভ হচ্ছে না বলে জানান তারা।

দীর্ঘদিন ধরে মুড়ি ভাজার কাজে নিয়োজিত মাতৃগাঁও গ্রামের হিন্দি বালা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সারা বছর যে পরিমাণ মুড়ি বিক্রি হয় তার প্রায় সম পরিমাণ বিক্রি হয় রমজান মাসে। রমজান মাস আসলেই কাজ বাড়িয়ে দেন তারা। সারাদিন মুড়ি ভাজার কাজে ব্যস্ত থাকেন। অন্যান্য সময় নিজেরাই বাজারে গিয়ে মুড়ি বিক্রি করেন। তবে রমজান মাস শুরুর আগেই শহরের পাইকাররা তাদের কাছ থেকে মুড়ি নেওয়ার জন্য বায়না করেন। প্রতিদিন গ্রামের বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মুড়ি কিনে শহরে বিক্রি করেন। দিনে প্রায় এক মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ওই গ্রামে প্রায় একশ’ পরিবার এখনো মুড়ি ভাজার কাজ করেই সংসার চালান। এটিই তাদের পেশা।

কাতিহার গ্রামের শর্মিলা রানী আরটিভি অনলাইনকে জানান, তারা কষ্ট করে হাতে মুড়ি ভাজেন। তাদের মুড়ির দাম একটু বেশি। রাসায়নিক না মেশানোর কারণে তাদের মুড়ি ধবধবে হয় না। যে কারণে অনেকেই তাদের মুড়ি নিতে চায় না। ক্যামিকেল মেশানো মেশিনে তৈরি সাদা মুড়ি দেখতে সুন্দর এবং বড় বড়। হাতে ভাজা মুড়ির বাজার দখল করে নিয়েছে  ওইসব মুড়ি। এ কারণে টিকে থাকতে পারছেন না তারা। তার মতে এসব মুড়ি কিনে প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহকরা।

মুড়ি ভাজার কাজে ব্যস্ত অনেকের অভিযোগ, পুঁজি না থাকার কারণে তারা আগে থেকে মুড়ি ভেজে মজুদ করতে পারেননি। দিনে যে মুড়ি বিক্রি করেন সেই টাকা দিয়েই আবার পরের দিন চাল কিনতে হয়। সদর উপজেলার চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েকশ’ পরিবার মুড়ি ভেজে জীবন ধারণ করে থাকেন। পুঁজির অভাবে তারা এগুতে পারছে না। সহজ শর্তে ঋণ দেয়া গেলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটা ভালো থাকতে পারবেন।

শহরের মুড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক আরটিভি অনলাইকে জানান, রমজান মাসে মুড়ির চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু গ্রামের মুড়ি দেখতে লালচে এবং সাইজে ছোট হওয়ায় অনেকে নিতে চায় না। তাছাড়া গ্রাম থেকে আনতে হয়। আর কারখানার মুড়ি সহজেই পাওয়া যায়। সাইজে বড় এবং ধবধবে সাদা। এ কারণে কারখানার মুড়িই বেশি বিক্রি করি।

কেমিক্যাল মেশানো মুড়ি খেলে নানা ধরনের অসুখ হতে পারে বলে অভিমত চিকিৎসকদের।

সিভিল সার্জন ডা: আবু মোহাম্মদ খায়রুল কবীর বলেন, যেকোনো ধরনের ক্যামিকেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। মুড়িতে মেশানো ক্যামিকেলের কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ হতে পারে। এটা না খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন : 

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়