• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

ধানের দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে হাওরের কৃষক

মো. আল আমিন টিটু, ভৈরব
|  ২০ মে ২০১৮, ১৪:৩২
দেশের বন্দরনগরী ভৈরবের ধানের মোকামে নতুন ধান আমদানি শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে হাওরে প্রায় ৮০ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। ফলে আড়তগুলিতে প্রতিদিন হাওর থেকে নৌপথে হাজার হাজার মণ ধান আসছে। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষকদের দাবি অকাল বন্যায় গেল বছর ফসল ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। আর এ বছর জমিতে অধিক ফলন উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় লোকসান যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। তাছাড়া গেল সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও প্রায় ২০ শতাংশ জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে দিন দিন কৃষকের ঘাড়ে বাড়ছে দেনার বোঝা।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নদী পথে ভৈরবের আড়তগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান আসছে। এসব ধান প্রতি মণ (মোটা) চারশ’ ৫০ টাকা থেকে পাঁচশ’ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর চিকন প্রতি মণ ধান পাঁচশ’ ৫০ টাকা থেকে  ছয়শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকরা জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন বাবদ বীজ রোপণ, পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও সেচের জ্বালানি তেলসহ সব মিলিয়ে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘা প্রতি গড়ে  ১৫-১৮ মণ ধান উৎপাদন হয়। ফলে প্রতি মণ ধান ছয়শ’ টাকা থেকে সাতশ’ টাকা দর জমিতেই পড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই ধান তার চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ বছর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে ফের লোকসানের মুখে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। এছাড়া এক মণ ধানের দাম দিয়ে একজন শ্রমিকের মাত্র এক দিনের মজুরি পরিশোধ করতে পারেন তারা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

এদিকে বাজারে প্রচুর পরিমাণে নতুন চাল আমদানি হওয়ায় চালের দামও কমে গেছে। ফলে ধানের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভৈরব বাজারে প্রায় শতাধিক ধানের আড়ত রয়েছে। সব সময়ের মতো আড়ত মালিকরা কমিশনের মাধ্যমে কৃষক ও পাইকারদের কাছ থেকে আমদানি করা ধান রাইস মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করে আসছেন। গত দুমাস আগেও পুরান ধান ১ হাজার টাকা থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে নতুন ধান আমদানির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি মণে চারশ’ টাকা থেকে পাঁচশ’ টাকা দাম কমে গেছে। বাজারে দাম কমার পেছেনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকৃত বেশির ভাগ নতুন ধান ভেজা থাকায় পরে ধানের ওজন কমে যায়। ফলে চাল ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনতে চান।

সরকার এবারও ধান-চাল কিনতে মূল্য নির্ধারণ করেছে। প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা।  মণ ১ হাজার ৪০ টাকা আর চাল ৩৮ টাকা দরে  ১ হাজার পাঁচশ’ ২০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে সরকারি খাদ্য গুদামে শুকনা ধান সরবরাহ করতে হবে। স্থানীয় গুদামগুলিতে এখনও ধান-চাল কেনা শুরু হয়নি। আগামী মাস থেকে সরকার ধান-চাল ক্রয় করবে বলে জানায় গুদাম সংশ্লিষ্টরা।

তাছাড়া কৃষকের উৎপাদিত সব ধান সরকার কিনতে পারবে না। একইসঙ্গে সরকারি গুদামে সিন্ডিকেটের কারণে ধান দিতে পারবে না তারা। এক কথায় কৃষকের প্রয়োজনের সময় সরকার ধান কিনবে না। ফলে বেশির ভাগ কৃষকই বাজারে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর এদিকে ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে প্রান্তিক কৃষকরা।

এ ব্যপারে ভৈরব সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ খোরশেদ আলম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যে আমরা সরকারি নির্দেশনা পেলেও এখনো কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য কোনো নিদের্শনা পাওয়া যায়নি। চাহিদা ও নির্দেশনা পেলেই ধান সংগ্রহ শুরু হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শরীফ মোল্লা আরটিভি অনলাইনকে জানান, সরকারি নির্দেশনা পেলে কৃষকের কাজ থেকে ধান কেনা শুরু করবো।

ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকই গরিব মানুষ। তারা ধার-দেনা করে বোরো ধান আবাদ করেন। ফলে তাদের বৈশাখ মাসের শুরুতেই ধান বিক্রি করতে হয়। কয়েকদিন পর বিক্রি করলে কৃষকরা ভালো দামে ধান বিক্রি করতে পারতেন। এছাড়া সরকারি গুদামে বেশি বেশি ধান কিনলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতো না।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়