• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বর্জ্যের ভাগাড়, বিপাকে এলাকাবাসী

ফেরদৌস জুয়েল, গাইবান্ধা
|  ০৭ মে ২০১৮, ১৪:২৫ | আপডেট : ০৭ মে ২০১৮, ১৪:৪১
গাইবান্ধা পৌরসভার জনবসতিপূর্ণ এলাকায় শহরের নানা বর্জ্য ফেলায় দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছে মানুষ। এ কারণে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা। এছাড়া নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে রাস্তার পানি দূষিত হয়ে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। তাই এখানে বর্জ্য ফেলানো বন্ধ করে অন্যত্র এই বর্জ্য ফেলানোর দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল রোববার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জনবসতিপূর্ণ বানিয়ারজান এলাকায় আলাই নদীর তীর ঘেঁষে বর্জ্য ফেলানো হয়েছে। দেখেই বোঝা যায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে এসব বর্জ্য স্রোতে ভেসে যায় ও পানি দূষিত হয়। আবর্জনার স্তূপের পাশে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটেছে। পচা ময়লা-আবর্জনার ওপরে মাছি উড়ছে। প্রতিদিন বেশ কিছু শিশু এসব ময়লা-আবর্জনা থেকে পুরানো ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী সংগ্রহ করছে। এসময় ছিন্নমূল মহিলা সমিতির একটি বর্জ্যের গাড়ি এসে ময়লা-আবর্জনা নামিয়ে রেখে চলে যায়।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :একটি সেতুর অপেক্ষায় ৩০ বছর
--------------------------------------------------------

ভুক্তভোগীরা জানান, বর্জ্য ফেলানোর জন্য তৎকালীন পৌরসভার মেয়র আনোয়ার-উল হাসান সবুর ২০০৪-২০১১ কার্য মেয়াদের শেষের দিকে বানিয়ারজান এলাকায় পৌরসভার মালিকানাধীন একটি পুকুর ভরাট করেন। পরবর্তী মেয়র শামছুল আলম ওই স্থানের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য নিয়ে গিয়ে ওই স্থানে ফেলা হচ্ছে। যখন এই এলাকায় বর্জ্য ফেলানো শুরু হয় তখন আশেপাশে কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। পরে ধীরে ধীরে আশেপাশে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে মানুষ। বর্জ্যের কারণে দিনের বেলাতেই মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। বৃষ্টি হলে এ দুর্গন্ধ আরও বেশি করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া দুর্গন্ধের কারণে সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছেন। পাকা রাস্তার উপরেই রাখা হয় বর্জ্য। ফলে রাস্তাটি দিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে চলাচল করতে হয় মানুষকে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে বিশ্রী দুর্গন্ধে আশেপাশের বাড়িতে থাকা দুরূহ হয়ে ওঠে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী বলেন, এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রবে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দুর্গন্ধের কারণে মানুষ বেশি বেশি অসুস্থ হচ্ছে, দুর্গন্ধ নাকে এলেই বমি করছেন অনেকে। আগামীতে এই এলাকায় আরও বসতবাড়ি নির্মিত হবে। তাই অন্যত্র জনবসতিহীন এলাকায় নিরাপদ স্থানে বর্জ্য ফেলানোর কাজ করলে ভালো হয়।

সমস্যার কথা স্বীকার করে গাইবান্ধা পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল মতিন সেলিম বলেন, দুর্গন্ধরোধে নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হলেও দুর্গন্ধ রোধ করা যাচ্ছে না। এসব বর্জ্যের এতই বিশ্রী দুর্গন্ধ যে আশেপাশের বাসার মানুষজন ঘনঘন অসুস্থ হচ্ছে। এই এলাকার মানুষদের সুস্থ রাখতে হলে এখানে বর্জ্য ফেলানো বন্ধ করে অন্য কোথাও ফাঁকা জায়গায় নিতে হবে এই বর্জ্য অপসারণের কাজ।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন বলেন, পূর্ববর্তী মেয়রদের সময়ে ওই স্থানে বর্জ্য ফেলানোর কাজ শুরু হয়। তবে দুর্গন্ধরোধে সেখানে নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানো ও স্প্রে করা হয়।

অন্য জনবসতিহীন ফাঁকা স্থানে বর্জ্য ফেলানো যায় কিনা এ ব্যাপারে তিনি বলেন, পৌরসভার বর্জ্য ফেলানোর জন্য ওই জায়গা কেনা হয়েছে। প্রথমে এই জায়গাটির আশেপাশেও ফাঁকা ছিল। কোনো ঘরবাড়ি ছিল না। পরে মানুষ এসে বাড়ি করেছে।

আরও পড়ুন :

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়