মায়ের কোল পেল ধান ক্ষেতে ফেলে যাওয়া নবজাতক

প্রকাশ | ০৭ মে ২০১৮, ১১:৪৯ | আপডেট: ০৭ মে ২০১৮, ১১:৫৮

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সদ্য জন্ম নেয়া এক কন্যা শিশুকে ধান ক্ষেতে ফেলে যায় কোন একজন। ধান ক্ষেতটি এক নিঃসন্তান দম্পতির। সকালে ধান ক্ষেত দেখতে যেয়ে নবজাতকের কান্নার শব্দ পান ক্ষেতমালিক। পরে ক্ষেতের আইলে কাপড়ে পেচানো নবজাতককে দেখতে পান তিনি। অসুস্থ নবজাতকটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন ওই দম্পতি। পরে প্রশাসনের পরামর্শে নবজাতকটির লালন পালনের দায়িত্ব নেন নিঃসন্তান দম্পতিটি।

ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের মন্নেয়ারপাড় এলাকায়।

এলাকাবাসী জানায়, মন্নেয়ারপাড় সরেয়ার তল গ্রামের নিঃসন্তান সফিকুল ইসলাম শনিবার সকালে তার ধান ক্ষেত দেখতে যান। এ সময় তিনি জমির আইলে সদ্যজাত এক নবজাতক কন্যা শিশুকে কাপড় দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানেই শিশুটি অনবরত কেঁদে চলছে। আশেপাশে কাউকে দেখতে না পেয়ে তিনি অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন :বগুড়ায় ধানক্ষেত থেকে ৪ গলাকাটা লাশ উদ্ধার
--------------------------------------------------------

পরে কালীগঞ্জ ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ব্যাপারীকে জানালে, তিনি শিশুটির চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে রোববার বিকেলে আশঙ্কামুক্ত শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যান তিনি। কোন দাবীদার না থাকায় পরে শিশুটিকে পিতৃ-মাতৃতের স্নেহে লালন পালন করার জন্য তার হাতে তুলে দেয়া হয়।

সফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা জানান, ১১ বছরের বিবাহিত জীবনে তারা ছিলেন নিঃসন্তান।

তারা জানান, সন্তান শূন্যতার কষ্ট নিরসনে সৃষ্টিকর্তা আশীর্বাদ স্বরুপ এ শিশুটিকে দান করেছেন। তাকে তারা নিজের সন্তানের মত বড় করে তুলতে চান। কন্যা শিশুটির নাম দিয়েছেন সুমাইয়া।

ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ব্যাপারী বলেন, ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে উদ্ধারকারী সফিকুল ইসলামের আগ্রহে শিশুটিকে তাকে লালন-পালনের জন্য দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, শুনেছি উদ্ধারকারী নবজাতক শিশুটিকে লালন পালন করতে চায়। শিশুটি যেখানে লালন-পালন হোক তার যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এ বিষয়টি চেয়ারম্যানকে খেয়াল রাখতে বলেছি।

আরও পড়ুন :

জেএইচ