• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

নরসিংদীতে চেয়ারম্যান সিরাজুল হত্যা মামলার আসামি ৩০

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী
|  ০৫ মে ২০১৮, ২০:১৫ | আপডেট : ০৫ মে ২০১৮, ২০:২১
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে হত্যার ঘটনায় ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে রায়পুরা থানায় নিহতের ছোট ছেলে আশরাফুল হক বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তবে এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের স্বজনরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে গোটা চরাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল খাগড়াছড়ি
--------------------------------------------------------

থানা সূত্রে জানা যায়, মামলায় এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান সিরাজুল হককে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বেশ কয়েকটি দল অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি নতুন করে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মেঘনা নদী ঘেরা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন। আধুনিক সভ্যতার এই যুগেও বাঁশগাড়িতে আধিপত্য নিয়ে চিরাচরিত বিবাদ কমেনি। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৮ জন। এরইমধ্যে গত মার্চে সাহেদ সরকার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবুও শেষ হয়নি বিবাদ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে বাঁশগাড়ি নিজের বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। ঘটনার পরই উত্তেজিত সমর্থকরা প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান সাহেদ সরকার সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। থম থমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে গোটা বাঁশগাড়িতে।

পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাহেদ সরকার মারা যাওয়ার পর ওই পক্ষের নেতৃত্বে আসে মালয়েশিয়া ফেরত জাকির হোসেন। তিনি ৫ মাস আগে দেশে ফিরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। সাহেদ সরকার মারা যাওয়ার পর দলীয় নেতা হিসেবে সে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এদিকে সিরাজুল হক ১৯৮৮ সাল থেকে ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য হন। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহেদ সরকারকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে সিরাজুল হকের জন্য অন্য কেউ চেয়ারম্যান হতে পারেনি। আর এই জনপ্রিয়তাই তার কাল হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শাহারিয়ার আলম বলেন, সম্ভাব্য সবগুলো কারণকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। সন্দেহের তালিকায় যারা এসেছে আমরা তাদেরকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি। তাদেরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

এদিকে শুক্রবার বাদ জুমা বাঁশগাড়ি পুরান বাজার বালু মাঠে নিহত চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের প্রথম জানাজা এবং শনিবার সকালে বাঁশগাড়ি নিউ মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়