• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

ইমামকে ন্যাড়া করা সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী
|  ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:২৪ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৪৪
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মো. আবদুল গফ্ফর (৩০) নামে মসজিদের এক ইমামকে অমানবিক নির্যাতন করে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা রাসেল হাওলাদার ও তার সহযোগীরা। 

গেলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মির্জাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জাগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। 

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মো. আনসার (৩৪) ও মো. জলিল (৪০)কে গ্রেপ্তার করতে পারলেও ঘটনার মূল নায়ক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রাসেল হাওলাদার তখন গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরে ওই রাতেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাসেল হাওলাদার।

রাসেল মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের আবদুল খালেক হাওলাদারের ছেলে। 
এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় নির্যাতিত ইমাম আবদুল গফ্ফর’র বড় ভাই মো. রাজ্জাক বাদী হয়ে রাসেল হাওলাদার, আনসার ও জলিলসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। 

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকিতে লাখো রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা
--------------------------------------------------------

পুলিশ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,  আবদুল গফ্ফর উপজেলার কাকড়াবুনিয়ার সোনাপুরা গ্রামের লতিফ হাওলাদারের ছেলে ও বেতাগী উপজেলার মিয়ার হাট গ্রামের কাওনিয়া হাওলাদার বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম। তিনি মসজিদের ইমামতির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের ঝাড়-ফুঁ দিয়ে থাকেন। 

নির্যাতিত আবদুল গফ্ফর আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এ ধরণের এক রোগী দেখার জন্য বৃহস্পতিবার তার মোবাইলে কাওসার নামে এক ব্যক্তি ফোন দেয়। ওই ফোন পেয়ে আমি মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার কপালভেড়া পর্যন্ত যাই। সেখানে যাওয়ার পর ছাত্রলীগে নেতা রাসেল হাওলাদার আরেকটি মোটরসাইকেল করে আমাকে চরের দিকে নিয়ে যায় এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে ৭/৮ জন আমাকে পাইপ দিয়ে পিটাতে থাকে এবং মাথা ন্যাড়া করে মল খাইয়ে দিয়ে বলে তুই ঝাড়-ফুঁ আর তদবির দিস কেন? 

এ ঘটনার পর গুরুতর আহত ইমাম আবদুল গফ্ফরকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাসেল, আনসার ও জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন : 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়