
সারাদেশের মতো পহেলা বৈশাখে প্রায় ৩৩ হাজার সদস্যের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পরিবারও মেতে উঠেছে প্রাণের উচ্ছ্বাসে। বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে দেবদারু ঘেরা উত্তরবঙ্গের এ শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে চলছে জোর প্রস্তুতি।
নতুন সৃষ্টির প্রত্যয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাতে নিয়েছে নানা আয়োজন। বাঙালি সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলতে এবং বাঙালি জাতির প্রাণের এ উৎসবে মেতে উঠতে চলছে শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম।
.jpg)
বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের পৃথক বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের জন্য স্থান নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে মঞ্চসজ্জা। ব্যানার, ফেস্টুন তৈরির কাজ। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার তুলে ধরতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন জিনিসপত্র। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য চলছে অনুশীলন। সব মিলিয়ে বর্ষবরণে মুখিয়ে আছে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণের মূল আয়োজন থাকছে চারুকলাকে ঘিরে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় গোটা রাজশাহীবাসী পহেলা বৈশাখে একবার হলেও ছুটে আসেন চারুকলা চত্বরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায়। অংশ নেন চারুকলা আয়োজিত বর্ণিল আয়োজনের মঙ্গল শোভাযাত্রায়।
.jpg)
বৃহস্পতিবার দুপুরে চারুকলা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, হাসি-গান আর আড্ডায় বৈশাখ উদযাপনে প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। কোথাও একদল শিক্ষার্থী মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য মুখোশ তৈরি করছে, কোথাও আবার বাঁশের লাঠি দিয়ে ডেমো তৈরি করছে, কেউ আবার রঙ দিয়ে দেয়াল লিখনসহ বিভিন্ন কাজে নিজেদেরকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে।
শান্তিপূর্ণ কৃষিপ্রধান দেশের মাহাত্ম্য বুঝাতে ডেমো হিসাবে থাকছে ষাঁড় এবং কবুতর। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কৃষি আমাদের দেশের মূল চালিকাশক্তি। পূর্বে জমি চাষ থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত গরু বা ষাঁড় ছিল অপরিহার্য।
শুধু তাই নয় গরুর গোবর আমরা জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। একসময় গরুর গাড়িতে করে আমরা নিরাপদে যাতায়াত করতাম। সেসময় আমরা অধিকাংশ কাজে গরুকে ব্যবহার করতাম। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও যান্ত্রিক মানবে রূপান্তরিত হয়েছি।
.jpg)
এখন জমি চাষ করা থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত আমরা যান্ত্রিকতার ওপর নির্ভরশীল। এখন কেউ গরুর গাড়িতে চড়ে না। মানুষ বড়ই স্বার্থপর। এখন আর গরুকে কেউ মনে রাখেনি। আমাদের সমাজ সংস্কৃতির মূলে যে গরু বা ষাঁড় ছিল তারই অংশ হিসেবে আমরা এবার ডেমো হিসেবে ষাঁড়কে বেছে নিয়েছি।
অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পাওয়ায় এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বশান্তির নজির দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব কিছু আমাদেরকে শান্তির বাণী শোনায়। তাই আমরা কবুতরকে বাছাই করেছি। জানান অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল।
.jpg)
ক্যাম্পাস জুড়ে কড়া নিরাপত্তা: এদিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেজন্য গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওইদিন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পহেলা বৈশাখের দিনে বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়ে দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশে থাকবে কড়াকড়ি। এছাড়া বিকেল ছয়টার মধ্যে সকলকে অনুষ্ঠান শেষ করে ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে।
জেবি/জেএইচ



