• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

দুঃখের বিলে সুখের হাসি

নওগাঁ সংবাদদাতা
|  ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ২০:১২ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৮, ২০:২৬
দুই চোখ যেদিকে যায় শুধু সবুজ ধানের বিস্তৃত মাঠ। দিন পনেরো আগে বের হওয়া ধানের শীষগুলো হেলে পড়েছে জমিনের দিকে। কলা পাকা ধানের শীষগুলো সামান্য বাতাসে দুলছে। 

প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরম। ধানক্ষেত থেকে চৈতালি গন্ধ নাকে এসে লাগছে। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ দেখে মনে হয় যেন শিল্পীর আঁকা কোনো পোট্রেট। অথচ গত তিন বছর আগেও নওগাঁর বিল মুনছুর, নলীর বিল, চক পাকুরিয়া, হামড়ার বিল ও চোয়ারপাড়া বিল পারের কৃষক এ চিত্র আশা করতে পারতেন না।

বৈশাখের শুরুতে সামান্য বৃষ্টি, সবুজ এ মাঠটিকে তলিয়ে দিত। অকালবন্যায় সোনালি ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের বুক ভাঙা আর্তনাদ করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : জনগণের পরীক্ষা দেয়ার সময় এসেছে: ফখরুল
--------------------------------------------------------

কিন্তু বর্তমানের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। সবুজ ধানের মাঠে তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে কাজ করছে কৃষক। স্বাধীনতার পর থেকে মহাদেবপুর, মান্দা ও নওগাঁ সদর উপজেলার ৩৭ কিলোমিটার বিলের তলা ভরাট হয়ে ছিল।

যে কারণে গেলো ১০ বছর এ বিলে ধান রোপণ করা ছিল কৃষকের কাছে জুয়া খেলার মতো। রোপণ করা ধান কৃষক গোলায় তুলতে পারবেন কিনা জানা ছিল না। সবকিছু নির্ভর করতো প্রকৃতির ওপর। কারণ একটু বেশি বৃষ্টি হলেই পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় ধানের জমিগুলো তলিয়ে যেত।

এই অবস্থায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলের ভরাট তলদেশ খননের প্রকল্প হাতে নেয়। ২০১৬ সালে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একই বছর একনেকে অনুমোদন পায়।

প্রায় সাড়ে ছয় হাজার একর জমি দুই ফসলি করে তুলতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া বিলের তলদেশ খনন কাজ এরইমধ্যে ২৩ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাস নাগাদ আরও নয় কিলোমিটার শেষ হবে।

তলদেশ খনন শেষ হওয়া এসব বিলে এখন বিপুল পরিমাণ পানি রয়েছে। সে পানি দিয়ে কৃষক এবার বোরো চাষ করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের তলদেশ থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে বোরো ক্ষেতে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আশপাশের জেলেরা পানিতে মাছ ধরছে।

স্থানীয় গয়েরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, খাল কাটার আগে বিল থেকে বোরো ফসল ঘরে তোলা যেত না। গত বছর থেকে এ মাঠ আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে। অকালবন্যায় আর আমাদের ধান নষ্ট হচ্ছে না। শুধু ধান নয় মাছও বিল থেকে শিকার করা যাচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় দেড় লাখ মানুষ সরাসরি খাল কাটা বিলের সুফল পাবে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আশা করছে আগামী ২০১৯ সালে এ প্রকল্প কাজ শেষ হলে অকালবন্যার যে আতঙ্ক তা আর থাকবে না। তাছাড়া এ খাল থেকে পানি সেচ নিয়ে সারাবছর কৃষক রবি ফসল ও মৌসুমি চাষাবাদ করার সুফল পাবে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নওগাঁ সদর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিলের তলদেশ খনন করা হচ্ছে তার সুফল এরইমধ্যে কৃষক পেতে শুরু করেছে। ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে।

কাজ শেষ হলে বিলসংলগ্ন প্রায় একশ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন হবে। চলতি বোরো মৌসুমে যে পরিমাণ ধান কৃষকের ঘরে উঠবে তা প্রকল্পে ব্যয় করা অর্থের অনেকটাই উঠে আসবে।

আরও পড়ুন : 

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়