গর্ভের সন্তান দ্বি-খণ্ডিত

সেই ৫ চিকিৎসকসহ ৭ জনকে আদালতে তলব

প্রকাশ | ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৬:৪৮ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০১৮, ১৭:০০

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় এক প্রসূতির গর্ভের সন্তানকে দ্বি-খণ্ডিত করার ঘটনায় কুমিল্লা মেডিকেলের পরিচালক, অস্ত্রোপচারকারী পাঁচ চিকিৎসক এবং জেলা সিভিল সার্জনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

তাদেরকে আগামী ৪ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এই আদেশ দেন।  

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: কুমিল্লা মেডিকেলের ২৬ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
--------------------------------------------------------

আইনজীবী জানান, আদালত এ ঘটনায় সাতজনকে ৪ এপ্রিল তলব করেছেন। জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুলও দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহারিচালক, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, কুমিল্লার সিভিল সার্জন, মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পরিচালক, অস্ত্রোপচারে নেতৃত্বদানকারী চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেলের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান করুণা রানী কর্মকারসহ অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অভিযুক্ত পাঁচ চিকিৎসক হলেন- গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুণা রানী কর্মকার, ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজ।

ঘটনার বিবরণে বলা হয়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের সফিক কাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগমের (৩০) প্রসব বেদনা নিয়ে গত ১৭ মার্চ রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন রোববার দুপুরে অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. করুনা রানী কর্মকারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের চিকিৎসক দল ওই অপারেশন করেন।

এসময় ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজসহ অন্যান্যরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রসূতির স্বামী সফিক কাজী জানান, প্রসব বেদনায় ছটফট করলেও ডাক্তাররা আমার স্ত্রীকে সিজারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরদিন ১৮ মার্চ দুপুরে জুলেখার সিজার করা হয়। এ সময় তার নবজাতক ছেলের মাথা বিচ্ছিন্ন এবং তার স্ত্রীর জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওইদিন হাসপাতালের একজন দারোয়ান এসে তার কাছে মৃত নবজাতককে মাটি চাপা দেয়ার জন্য ৫শ’ টাকা চায়। পরে তিনি ৩শ’ টাকা দিলে ওই দারোয়ান মাটিচাপা দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান তার সন্তানের মাথা কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। এসময় তিনি মোবাইলে নবজাতকের ছবি তুলে রাখেন। এরপর দারোয়ান হাসপাতালের অদূরে নিয়ে নবজাতককে মাটিচাপা দেয়।

এদিকে শনিবার (২৪ মার্চ) সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় জমায়। দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের অতিরিক্ত ১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রসূতি জুলেখা বেগম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ডাক্তাররা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। হাসপাতালে আসার পরও আমার পেটে সন্তান নড়াচড়া করছিল। আমি সিজারের কথা বললেও তারা (ডাক্তার) রাতে সিজার করেনি। ডাক্তার আমার জরায়ুপথে পেটের ভেতর হাত দিয়ে টানাটানি করে আমার সন্তান নষ্ট করে ফেলেছে।

অপারেশনে অংশ নেয়া হাসপাতালের ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. আয়েশা আফরোজ, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন সাংবাদিকদের জানান, প্রসূতির গর্ভের সন্তান মৃত ও অস্বাভাবিক পজিশনে ছিল। কিন্তু শিশুটির হাত-পা জরায়ু মুখ দিয়ে বের হয়ে চলে আসায় বাধ্য হয়ে অপারেশনের মাধ্যমে মৃত শিশুর দেহ ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে আলাদাভাবে বের করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা জরায়ুটি কেটে ফেলি। অপারেশনের আগে এসব বিষয়ে প্রসূতির স্বামীর অনুমতি নেয়া হয়েছে এবং এতে ডাক্তারদের কোনো অবহেলা ছিল না।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মতিউর রহমান সংশ্লিষ্ট চারজন ডাক্তারকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রসূতির জীবন রক্ষার্থে ডাক্তাররা অপারেশন করে গর্ভের সন্তান দুই খণ্ড করে বের করে আনেন। এ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সঠিক কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: 

জেএইচ