• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

ফটিকের মতো তাওহিদও মায়ের কাছে যেতে চেয়েছিল!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
|  ০৬ মার্চ ২০১৮, ১৫:২২ | আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৮, ১৫:৩১
রবীন্দ্রনাথের ছুটি গল্পের নায়ক ফটিক চক্রবর্তী মায়ের কাছে যাওয়ার বায়না ধরেছিল। কিন্তু যেতে পারেনি। মাদরাসা হজুরের নির্যাতনের শিকার তাওহিদও মায়ের কাছে যেতে চেয়েছিল। যেতে পারেনি। মৃত্যু তাকে অজানা-অচেনা অন্য এক রাজ্যে নিয়ে গেছে।   

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষকের বর্বর নির্যাতনে এক ছাত্র নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

গেলো রোববার রাতে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাওহিদুল ইসলাম (১০) নামের ওই ছাত্র মারা যায়।

সে ভালুকার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের কয়েস মিয়ার ছেলে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই আবাসিক ছাত্রদের মাদরাসায় ফেলে গা ঢাকা দিয়েছেন শিক্ষকরা।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামিরদিয়া মাদরাসার হেফজ শ্রেণির ছাত্র ছিল তাওহিদুল ইসলাম। সম্প্রতি পড়া মুখস্থ করতে না পারায় মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আমিনুল ইসলাম লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাওহিদুলের পাজরের হাড় ও একটি পা ভেঙে দেন। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন ওই শিক্ষক।

বিষয়টি গোপন রেখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে তাওহিদুলকে বাড়িতে রেখে আসে। সেই সময় তারা জানান তাওহিদুল খেলতে গিয়ে পড়ে আহ্ত হয়েছে। কিন্তু পরে তাওহিদ তার বাবা-মা ও দাদীর কাছে ঘটনা খুলে বলে। এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রথমে ভালুকা পরে চুরখাই কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গেলো তিন মার্চ তাকে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তাওহিদের মা হাসনা হেনা বলেন, তাওহিদুল ১৮ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল, কিন্তু মাদরাসা থেকে ছেলের মরদেহ বাড়িতে আসবে কখনও ভাবেননি তিনি।

তিনি জানান, তাওহিদুল মাঝেমধ্যে স্বপ্নে বলতো হুজুর আর মারবেন না, আমি মরে যাবো, আমাকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন।

সোমবার সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে তাওহিদের কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেলো ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে পড়া না পারার কারণে হাফেজ আমিনুল ইসলাম মোটা একটা লাঠি দিয়ে তাওহিদকে পিটিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে মাদরাসার সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিষয়টি তিনি জানতেন না, গতকাল সোমবার সকালে জানতে পেরেছেন।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন-অর-রশীদ জানান, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনামুল হক নামের এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:

জেবি/ পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়