• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫

জামালপুরে টমেটোর বাম্পার ফলন

সুজিত রায়, জামালপুর
|  ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০৫ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:১১
জামালপুরের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে টমেটো ক্ষেত। টমেটো আবাদ করে এখানকার কৃষকরা হয়েছেন স্বাবলম্বী।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর, তুলশীরচর, রানাগাছা, শরিফপুর, নরুন্দি, ইটাইল ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে টমেটোর আবাদ হয়েছে।

এছাড়া মেলান্দহ উপজেলার মধ্যেচর টুপকার চর, বালুরচর, কাজাইকাটা, মাহমুদপুর, ইসলামপুর উপজেলার চরগোবিন্দী, ডিগ্রিরচর, লক্ষ্মীপুর, বাহাদুরপুর, সিরাজাবাদ, মোশারফগঞ্জ, টংগের আলগা, দেওয়ানগঞ্জে, বাহাদুরাবাদ, মাদারগঞ্জের মহিষবাথান, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি, জোড়খালী, সরিষাবাড়ির পিংগনা ও আওনা এলাকায় টমেটো চাষ হয়।

প্রতিবছর আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কৃষকরা বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা উঁচু ভিটায় পলিথিনের মাচা তৈরি করে টমেটোর বীজ বপন এবং চারা তৈরি করে থাকেন। অক্টোবরের শুরুতে টমেটোর চারা রোপণ করে একটু বড় হলে শক্ত খুঁটির সঙ্গে বসিয়ে বেঁধে রাখেন, যেন মাটিতে পড়ে না যায়।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ৮শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। বর্তমানে নান্দিনা বাজারে নতুন টমেটো খুচরা ও পাইকারি কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা ক্রয় করে ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ভর্তি করে শত শত মণ টমেটো নিয়ে যাচ্ছেন।

সরেজমিনে নান্দিনা বাজারে দেখা গেছে, এখানে প্রতি মণ টমেটো পাইকারি ৯শ’ টাকা থেকে ১১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক’দিন আগে প্রতি মণ টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৩ থেকে ১৪শ’ টাকায়।

লক্ষ্মীরচর গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, এক বিঘা জমিতে দেড়শ’ মণের বেশি টমেটোর ফলন পাওয়া যায়। তাই আমি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করছি। আশা করছি এ টমেটো বিক্রি করে আশানুরূপ লাভ করব।

চরগোবিন্দ গ্রামের হাসেম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এবার টমেটোর ভালো ফলন হয়েছে। অতিরিক্ত লাভ আর বাড়তি আয়ের জন্য আমরা চরের কৃষকরা টমেটো আবাদে নেমেছি। ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজার, শরিফপুর বাজার, মহেশপুর কালিবাড়ি, বারুয়ামারি, গজারিয়া মোড়, নরুন্দি বাজার, তারাগঞ্জ বাজারে পাইকারি ক্রেতারা ট্রাক নিয়ে ঢুকছেন।

নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, বিভিন্ন জাতের টমেটো আবাদ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উন্নয়ন জাতের, দিগন্ত, রূপসী, বিউটিফুল, লাভলী, ব্র্যাকের আবিষ্কৃত ১৭৩৬, সফল, কোহিনুর মঙ্গল সুপার ও মঙ্গলরাজা। এবার এসব এলাকায়  বিউটিফুল, দিগন্ত এবং রূপসী জাতের টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করতে খরচ হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। ভালো ফলন ও দাম ভালো থাকলে খরচ উঠে প্রতি বিঘায় লাভ হয় প্রায় পাঁচ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এবার ভালো ফলন এবং ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। যা অন্য কোনো ফসলে পাওয়া অসম্ভব। রানাগাছা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ নিয়ে উন্নতমানের বীজ বপন করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এবার দীর্ঘসময় শীত কম থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইফরাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু তাই নয় বর্তমানে বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরাও খুশি। তিনি উল্লেখ করেন, এ অঞ্চলে যে পরিমাণ টমেটো আবাদ হয়, তাতে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতের জন্য এখানে একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন জরুরি।

আরও পড়ুন

জেবি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়