• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫

নেত্রকোনার সড়ক যেন হালচাষের ক্ষেত

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৯ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৭
নেত্রকোনার ৯ উপজেলার সড়কগুলো যেন সড়ক নয়, যেন হালচাষ করার ক্ষেত। বড় বড় খানাখন্দ ও ধুলা-বালিতে সয়লাব। মরণফাঁদ বললেও অত্যুক্তি হবে না। তবু এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলছে শত শত ট্রাক-বাসসহ অন্যান্য যানবাহন। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিচ্ছে দু-তিন ঘণ্টায়। মাঝে মধ্যে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন অবস্থা। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এ সড়কটির যেন কোন কর্তৃপক্ষই নেই!

সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে, দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবী নেত্রকোনাবাসীর।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট
--------------------------------------------------------

স্থানীয়রা জানান, নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা। বিরিশিরি, হাজং মাতা রাশমণির ভাস্কর্য, গাছের পাথুরে শাখা, মগড়া নদীসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ, কবি নির্মলেন্দু গুনসহ অনেক গুণী মানুষের জন্ম এ অঞ্চলে। অথচ উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি ১৯৮৪ সালে জেলার মর্যাদা পাওয়া নেত্রকোনায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি যারা এলাকায় বেড়াতে আসেন তারাই জানেন দুর্ভোগ কাকে বলে। প্রধান সড়কগুলোতে বেহাল দশার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় চালকসহ যাত্রীদের। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত ধূলা-বালির কারণে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয়রা।

নেত্রকোনা-মদন সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করেন জাহিদ আনোয়ার। তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, দায়ে পড়ে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। এক দিন গেলে আরেক দিন যেতে ইচ্ছা করে না। এক ঘণ্টার রাস্তা দুই ঘণ্টায়ও শেষ হয় না।

কলেজশিক্ষক কামরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বর্তমানে আমাদের এলাকার মত এমন বেহাল রাস্তা মনে হয় আর কোথাও নেই। বর্ষায় কাঁদা, শুকনো মৌসুমে ধুলায় পরিপূর্ণ থাকে রাস্তাগুলো। ফলে বছরজুড়ে এ অঞ্চলের মানুষ এ রাস্তার জন্য ভোগান্তিতে পড়ে।

বাসচালক মো. আনু মিয়া (৪৫) আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এত গর্ত যে বাসের গতি তুলন যায় না। এখন বাসে আমরার খরচ বাইড়া গেছে। বাস একটা গর্ত থাইক্যা উডাইতে যে সময় লাগে, এ গতিতেই প্রায় সারা রাস্তা যাইতে অয়।’

সমাজসেবক শহিদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন,  এ রাস্তায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পড়েন রুগীরা। বিশেষ করে গভবর্তী নারীদের এ পথ দিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয়।

জেলা শহরের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার। তিনি আরটিভি অনলাইকে বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে রাস্তা উন্নয়নে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। বড় ছোট অনেক কাজ রাস্তাগুলোতে হবে। অচিরেই জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব হবে। শুধু আশ্বাস নয়, সমস্যা সমাধানে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা ভুক্তভোগীদের।

আরও পড়ুন: 

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়