• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

ইট-ভাটা থেকে নির্যাতিত ১৪ শ্রমিক উদ্ধার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৪৮ | আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৫৭
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চর-কুশলী এলাকার পিয়াল ব্রিকস (ইট-ভাটা) থেকে ৬ কিশোর-শ্রমিকসহ ১৪ শ্রমিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইট-ভাটায় শ্রমিকদেরকে তালাবদ্ধ রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে- এমন খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়া থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযান চালায়। পরে এসব ভুক্তভোগী শ্রমিকদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

উদ্ধারকৃত শ্রমিকরা হলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মহেষমোড়া গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে আমির উদ্দিন (১৭), বাজালিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাজ্জাত (১৫), নূর মোহাম্মদের ছেলে মোঃ ফোরকান (১৭), আবু তাহেরের ছেলে আবু তালেব (১৬) আবুল কাসেমের ছেলে অসিতুল্লাহ (২৭) ও আবুল কাসেমের ছেলে এমরান (২০), মারফালা গ্রামের আবুল হাসানের ছেলে সাজ্জাত (১৭), দানু মিয়ার ছেলে ইউসুফ (৩৫), নূর মোহাম্মদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন, (২২) ও হাজী সালেহ’র ছেলে হাসেম (৩০), উত্তর ডেমসা গ্রামের নজির হোসেনের ছেলে আবুল কাসেম (৩০), বসির আহম্মেদের ছেলে ফরিদ (১৮), কাজেমের ছেলে আব্দুল ওয়াকাব (১৭) ও পুরান ঘর নূরুল আমিনের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম (১৮)।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, তিন বেলা খাবার ও থাকার ব্যবস্থাসহ প্রতিদিন ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা করে মজুরি দেয়ার শর্তে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শ্রমিক সর্দার মোঃ দাউদ তাদেরকে নিয়ে আসেন পিয়াল ব্রিকসে। কিন্তু এখানে আসার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮০ হাজার ইট কাটতে হবে বলে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে ইট-ভাটার মালিকপক্ষ। ভোর সাড়ে ৪ টায় ঘুম থেকে টেনে তুলে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কেউ দেরি করে উঠলে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারপিটও করা হয়। ঠিকমতো টাকা-পয়সাও দেয় না। আবার কাজ শেষে সন্ধ্যার পরপরই একটি কক্ষের মধ্যে তাদেরকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

তারা জানান, তাদের সবার মোবাইলফোন আটকে রেখেছেন ইট-ভাটার ম্যানেজার। প্রতিবাদ করলে ভাটার ম্যানেজার বাদশা মুন্সি হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা নাকি রোহিঙ্গা এবং আমাদের মেরে বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলে দেয়া হবে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা আরও জানান, ভাটা-মালিক খালিদ হোসেন জমাদ্দারকে কাজ পছন্দ না হলে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন তারা; কিন্তু তিনি বলেছেন এখান থেকে যাওয়া যাবে না, তাদের ইচ্ছামতোই কাজ করতে হবে। তাই আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই।

এদিকে বিষয়টি অস্বীকার করে পিয়াল ব্রিকস এর সত্ত্বাধিকারী খালিদ হোসেন জমাদ্দার মোবাইলফোনে সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকদের তালাবদ্ধ করে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়। বেশ কয়েকজন শ্রমিক অগ্রিম টাকা নিয়ে কাজ না করে পালিয়ে গেছে। ওদেরকে আমরা কেবল নজরদারিতে রেখেছি।

টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই কাজী শাওন জানান, ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদেরকে ভাটায় কাজ করতে দেখতে পাই। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই ভাটার ম্যানেজার বাদশা মুন্সী ও শ্রমিক-সর্দার দাউদ সেখান থেকে দ্রুত চলে যান। পরে ওই শ্রমিকদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

থানার ওসি মোঃ এনামুল কবীর জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত শ্রমিকদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত-বয়স্ক তাদেরকে তাদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪-৫ জন রয়েছে কিশোর, যাদেরকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের অভিভাবকরা এলে তাদের কাছে তুলে দেয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়