close
বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮

নিজ ভাষার বই পেল ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা

মো. শাহরিয়ার ইউনুস, খাগড়াছড়ি
|  ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৫১
অন্যান্য জেলার মতো পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও বই বিতরণ উৎসব হয়েছে। নতুন বই নিতে সকাল থেকেই প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা হাজির হয় নিজ নিজ বিদ্যালয়ে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে এসেছেন তাদের অভিভাবকরাও। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলো।

পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়সহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রাক ও প্রথম শ্রেণির শিশুদের মধ্যে দেয়া হয় তাদের মাতৃভাষার বই। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা নতুন বই পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত।

সোমবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা শহরের অদূরে কুকিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। এর মধ্যদিয়েই পুরো জেলায় চলছে বই বিতরণ উৎসবের কার্যক্রম।

খাগড়াছড়ি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৯৩টি। এছাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৬টি এবং অন্যান্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৬টি। মোট ৭১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরেই আছে ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এক লাখ ২১ হাজার ৮৮৭ জন। এসব ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে চার লাখ ৯৮ হাজার ২৪২টি বই বিতরণ করা হবে।  ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া এই জেলায় ১১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আছে পাঁচটি। আর বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় ১১২টি। জেলা শহরে দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি আরো ১৯টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

এসব বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪৮ হাজার ৭০৩ জন। সবকটি উচ্চ মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ  করা হয়েছে। পাহাড়ের সব বিদ্যালয়েই কম বেশি রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থী। তারাও পেয়েছে নতুন বই।

জেলা সদরের কুকিছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, বাংলা ভাষা শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের সন্তানরা নিজ মাতৃভাষায়ও শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। ভাষা চর্চায় সন্তানদের আর কোনো অসুবিধাও হবে না।

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলুয়ারা বেগম আরটিভি অনলাইনকে জানান, এ বিদ্যালয়ে শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৬০০ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে এ বিদ্যালয়ের সভাপতি পৌর মেয়র রফিকুল আলমের উপস্থিতিতে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনে নতুন বই তুলে দিতে পেরে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি শ্রেণি শিক্ষকরাও  আনন্দিত।

রফিকুল আলম বলেন, সমতলের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর হাতে আজ নতুন বই তুলে দিতে আগে থেকেই বই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের স্ব স্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার জন্য সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। এই বছর শিশু শ্রেণি থেকে ১ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীলা তালুকদার আরটিভি অনলাইনকে জানান, সকাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বই নিতে বিদ্যালয়ে এসেছে। যারা আজ বিদ্যালয়ে এসেছে তাদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়েছি।

তিনি আরো জানান, পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীদের হাতেই নতুন বই দেয়া হবে। এছাড়া নতুন করে যে সকল শিক্ষার্থী  ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হবে তাদের হাতেও পর্যায়ক্রমে নতুন বই তুলে দেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন আরটিভি অনলাইনকে জানান, একযোগে খাগড়াছড়ি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরণ কার্যক্রম চলছে। 

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাধন কুমার চাকমা আরটিভি অনলাইনকে জানান, সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ নতুন বই তাদের হাতে আছে। কোনো শিক্ষার্থীই নতুন বই পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে না। 

 

জেবি/কে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়