• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

অতিথি পাখির কলরবে মুখর সেন্টমার্টিন

কক্সবাজার প্রতিনিধি
|  ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:২২ | আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:০০
ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেঁধে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আসছে নানা জাতের পাখি। এইসব অতিথি পাখির কলরবে মুখর সেন্টমার্টিন।

পৌষ মাস শুরু হলে আগমনী বার্তা নিয়ে সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই অতিথি পাখির দল সেন্টমার্টিন দ্বীপে হাজির হয়।

প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় সমুদ্র সৈকতে দেখা যাচ্ছে অতিথি পাখির দল। ভ্রমণপিপাসুরা অতিথি পাখি দেখতে ভিড় করছে। ঝাঁকে ঝাঁকে এই পাখি দূরদেশ থেকে এসে দ্বীপের কটেজের ছাদে, গাছের ডালে, পর্যটকবাহী জাহাজের ছাদে ও সাগরের বিভিন্ন খুঁটিতে বসতে শুরু করেছে। এদের কল-কাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপ। ৭-৮ বছর ধরে এই অতিথি পাখি দূরদেশ থেকে আসতে শুরু করেছে বলে জানান এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দারা।

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৭-৮ বছর ধরে এখানে দেশি-বিদেশি পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। শীতের শুরুতেই এই পাখিগুলো খাবারের জন্য ছুটে আসে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও সাগরে। সাগরের পানির উপর অংশে পোকা, ছোট মাছ শিকার করে তারা।

শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদের সংখ্যাও যেন বাড়তে থাকে। শীত শেষে পাখিরা আবার চলে যায়। বছর ছয়েক আগে অসাধু শিকারিদের আনাগোনা ছিল এখানে। এখন আর নেই। এলাকাবাসী ও কয়েকশ জেলে মিলে পাখি শিকার না করতে সচেতনতা গড়ে তুলেছেন।

সাগরের মাঝখান দিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ আসা-যাওয়া করছে। কেয়ারী সিন্দবাদ, এলটিসি কুতুবদিয়া, এমভি ফারহান, ঈগল, সোনারগাঁও- এই জাহাজগুলো দিয়ে প্রবাল দ্বীপবাসী ও পর্যটকগণ আসা-যাওয়া করেন। এই জাহাজ থেকে পর্যটকরা উঁকি দিয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখছেন পাখিগুলোকে। জাহাজের খুব কাছে এসে খেলা করছে ওরা। কেউ খাবার খুঁজছে পানিতে মাথা ডুবিয়ে। পাখিগুলোর খেলা দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ। এদের মধ্যে পাতিহাঁসই বেশি। এছাড়া আছে পানকৌড়ি, সাদা বকসহ নাম না জানা অসংখ্য পাখি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুস্মিতা চৌধুরী বলেন, দেশের সর্ব দক্ষিণে একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে এসে অনেক আনন্দ পেলাম। এখানে আসার স্মৃতি অনেকদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

রিকশাচালক মনিরুল ইসলাম জানান, এ সময়ে অতিথি পাখির পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ে। এখানে পর্যটকদের পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম রিকশা। এ সময়ে প্রতিদিন আমার এক থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়।

এমসি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়