close
বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮

জমে উঠেছে বউ-জামাই মেলা

হাসান-উল-আজিজ, লালমনিরহাট
|  ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৫৭ | আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৭:১১
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি কলেজ মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী বউ-জামাই মেলা।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। শুক্রবার এ মেলার উদ্বোধন করেন বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাসেম মহা-বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

এবার বউ-জামাই মেলায় ২০টি মৎস্য স্টল, ৩০টি পিঠা স্টল ও অন্যান্য প্রসাধনী পণ্যের ১৫টি স্টল স্থান পেয়েছে।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী বউ-জামাই মেলার দ্বিতীয় দিন শনিবার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। গলায় মালা ও শাড়ি পড়ে মেয়ে-জামাই মেলায় এসে আনন্দ উপভোগ করেছেন। এই মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করেছেন। এদিকে বউ-জামাই মেলার আনন্দ বাড়িয়ে দিতে যোগ হয়েছে মৎস্য ও মিঠা উৎসব।

হরেক রকমের পিঠা ও নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে দোকানিরা পসরা সাজিয়েছেন মেলায়। মেলায় প্রতিদিন সকালে মৎস্য উৎসব ও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলবে পিঠা উৎসব।

মেলায় স্টলগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। মেলা উপলক্ষে সদরের চারটি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এসেছেন মেয়ে ও জামাই। গলায় মালা ও লাল শাড়ি পড়ে নতুন রূপে সেজে-গুজে মেয়ে-জামাই এসেছে মেলায়। তারা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য কিনছে বড় মাছ ও নকশা করা মিঠা। এদিকে নতুন জামাই বাড়িতে আসবে বলে শ্বশুরও কিনছে বড় মাছ।

তবে মেলায় আগত দর্শনার্থী ক্রেতারা বলছেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছি এ মেলায় পিঠা ও মাছ কিনতে। কিন্তু বিক্রেতারা মাছ ও পিঠার দাম হাঁকাচ্ছেন বেশি। আবার বিক্রেতারা বলছেন-সামুদ্রিক মাছগুলো আড়তেই চড়া দাম। এ কারণে পরিবহন খরচ নিয়ে এই মাছগুলোর দাম প্রতি কেজি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বিক্রি না করলে লাভ হবে না। আর পিঠা বিক্রেতারা বলছেন, সব জিনিসেরই দাম বেশি তাই পিঠার দামতো একটু বেশি হবেই।

তবে দাম যাই হোক পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য মেলায় আসা বউ ও জামাই পছন্দ মতো মাছ ও পিঠা কিনে শ্বশুরবাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মৎস্য খামারি ও ব্যবসায়ীরা এসেছেন মেলায়। মাছ ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় ও দুর্লভ জাতের মাছের পসরা নিয়ে বসেছেন এ মেলায়। দামও চড়া। ক্রেতারাও চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী তা কিনছেন।

মাছ বিক্রেতারা চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে এসেছে ২৩ কেজি ওজনের কোরাল, ১৫ কেজি ওজনের বোয়াল, ১০ কেজি ওজনের রুই-কাতলসহ বিভিন্ন জাতের মাছ।

মাছ বিক্রেতা নুরু আরটিভি অনলাইনকে জানান, কোরাল মাছটি ৪৫ হাজার টাকা দাম হাঁকানো হয়েছে। ৩৮ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত উঠলে বিক্রি করা হবে।

রুপালি মৎস্য আড়তে ১৫ কেজি ওজনের গ্রাসকার্প মাছটি ক্রেতাদের দৃষ্টিতে আসছে। বাজেট অনুযায়ী দাম করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতা বিরুদাস মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ২৫ হাজার টাকা। ২২ হাজার টাকা হলে বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ক্রেতা হানিফ মিয়া ও কাজল মিয়া জানান, অনেক দিনের শখ বড় মাছ খাওয়ার। তাই গ্রামের কয়েকজন মিলে মাছ কিনতে বউ-জামাই মেলায় এসেছেন।

মেলার আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে জেলায় বউ-জামাই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জামাই মেলা থেকে বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি যাবে আর হরেক রকম পিঠা খাবে।

এছাড়াও নতুন প্রজন্মের শিশুরা বিলুপ্ত প্রায় অনেক প্রজাতির মাছের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

সব মিলিয়ে গ্রাম-বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই মূলত এ ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়েছে ।

জেবি/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়