close
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

তারা সাইকেল বালিকা!

মাহাফুজুল ইসলাম আসাদ
|  ২৭ অক্টোবর ২০১৭, ১২:০০ | আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৭, ১২:৪৬
সমাজপতিদের সমালোচনাকে তোড়াই কেয়ার করে তারা এখন দুরন্ত সাইকেল বালিকা। দিনাজপুরের চিরিরবন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চিরিরবন্দর আমেনাবাকি রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাইসাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করায় এলাকায় জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।

সকল সমালোচনাকে উপেক্ষা করে মেয়েরা এখন স্কুল, কলেজ, হাট-বাজার, অফিস, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় বাইসাইকেলে যাতায়াত করছে। দিনদিন বাড়ছে তাদের সংখ্যা।

আগে অভিভাবকরা যাতায়াতের অসুবিধার কথা ভেবে দূরের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের ভর্তি করতে চাইত না। এখন সে ধারণা পাল্টেছে। মেয়েরা সকল প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।

চিরিরবন্দর কারেন্ট হাট এলাকার অভিভাবক আবুল হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আগে মোটরসাইকেল করে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে হত। এখন সাইকেল কিনে দেয়ায় সে নিজেই সঠিক সময়ে ক্লাসে যেতে পারছে। আমার জন্য আর তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

সুরভী আক্তার নামের এক ছাত্রী আরটিভি অনলাইনকে জানান,  আমি ছয় কিলোমিটার দূর থেকে চিরিরবন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশা থাকলে শুধু সমস্যা হয়। এমনিতে স্কুলের পোশাক পরা থাকায় রাস্তাঘাটে কোনো সমস্যা হয় না। প্রধান শিক্ষক স্যার প্রায়ই রাস্তায় ঘুরে মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের দেখাশোনা করেন।

আমেনাবাকি রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের জেসমিন নামের এক ছাত্রী আরটিভি অনলাইনকে জানান, আমার বাবা অত্যন্ত গরিব। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন ভ্যান ভাড়া দিতে পারতেন না। আমি উপবৃত্তি ও টিফিনের টাকা দিয়ে একটি সাইকেল কিনেছি। এখন আমি প্রতিদিন সাইকেলে করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারছি। সেইসঙ্গে ভালোভাবে লেখাপড়াও করতে পারছি।

আমেনাবাকি রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিগত দিনে আমরা দূর থেকে আসা গরিব মেধাবী ছাত্রীকে স্কুলের পক্ষ থেকে বাইসাইকেল দিয়েছি। সেইসঙ্গে আমরা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় চলাচলে যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে সবসময় সর্তক রয়েছি।

চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক মেয়ে শিক্ষার্থী প্রতিদিন বাইসাইকেলে যাতায়াত করছেন। 

চিরিরবন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রিমি আকতার আরটিভি অনলাইনকে জানান, বাবা-মায়ের আশা পূরণ করার জন্য আট কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসছি।

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্কুলে আসার সময় বখাটে ছেলেরা আমাদের সাইকেলের পিছু নেয়। তারা অশ্লীল কথাবার্তা বলে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।

এ বিষয়ে চিরিরবন্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব উদ্দিন সরকার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করলে বখাটেদের উৎপাত কমে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম রব্বানী আরটিভি অনলাইনকে জানান, ইভটিজিং বা যৌন হয়রানি বন্ধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

জেবি/জেএইচ

 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়