• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নড়াইল প্রতিনিধি
|  ১০ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:৩৭ | আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৭, ১০:৫০
বিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিল্পী সুলতান মারা যান।

দিবসটি পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে শহরের মাছমদিয়ায় শিল্লীর আবাসস্থলে কুরআন খানির আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসন, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল প্রেসক্লাব, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সমাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

পরে শিশুস্বর্গের সভাকক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোঃ মাহবুবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা সেলিম, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাডঃ আলমগীর সিদ্দিকী, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অশোত কুমার শীলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক ক্ষুদে শিল্পী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রংতুলির রঙিন আঁচড়ে রাঙিয়ে তোলে নিজ নিজ ক্যানভাস।

নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা, পাখির কলকাকলিতে ভরা শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন শিল্পী এস এম সুলতান (লাল মিয়া)। পিতা মোঃ মেছের আলি আর মাতা মোছাঃ মাজু বিবি।

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৭০ বছরের জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন ‘পাট কাটা’, ‘ধানকাটা’, ‘ধান ঝাড়া’, ‘জলকে চলা’, ‘চর দখল’, ‘গ্রামের খাল’, ‘মৎস্য শিকার’, ‘গ্রামের দুপুর’, ‘নদী পারা পার’, ‘ধান মাড়াই’, ‘জমি কর্ষণে যাত্রা’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘ধান ভানা’, ‘গুন টানা’, ‘ফসল কাটার ক্ষণে’, ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’, ‘শাপলা তোলা’ মত বিখ্যাত সব ছবি।

১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালনী বিশ্ববিখ্যাত চিত্র শিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পলক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে। কালোত্তীর্ণ এই চিত্রশিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।

 

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়