• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

‘স্বজনদের জানাজা দিতে পারিনি, মগরা লাশগুলোও পুড়িয়ে ফেলেছে’

কাজী মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
|  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৬:০৯ | আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:০৯
মিয়ানমারের রাশিডং এলাকার সোহাগ পাড়ার বাসিন্দা মো. ইউনুস ও তাছলিমা দম্পতির ছিল সুখের সংসার। ছিল গরুসহ ৩০ কানির মতো জমি। ভালোই চলছিল তাদের সাজানো সংসার। কিন্তু সম্প্রতি সহিংসতায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী এই দম্পতির দুই ছেলে, বাবা, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের ৫ সদস্যকে গুলি করে মেরে ফেলে। কোনো মতে জীবন বাঁচিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে পেরেছে ইউনুস-তাছলিমা।  

বর্তমানে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলজে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্ত্রী তাছলিমাকে ভর্তি করিয়েছেন ইউনুস। হাসপাতালের বিছানায় স্ত্রীর তাছলিমার পাশে বসে ইউনুস আরটিভি অনলাইনকে বলেন, হঠাৎ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এসে ঘরের মধ্যে আগুন লাগিয়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে ঘর থেকে বের হওয়া মাত্র গুলি চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এতে সঙ্গে সঙ্গে আমার পরিবারের ছয়জন মাটিতে পড়ে যায়। ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলে মারা যায়। আমি আমার স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে জীবন বাঁচিয়ে তিন থেকে চারদিন পরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছি। 

কান্না জড়িত কণ্ঠে ইউনুস বলেন, ‘আমার এক ছেলের বয়স হয়েছিল আট বছর। আরেকজনের ছিল এক বছর আট মাস। তাদেরকেও মেরে ফেলেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদেরসহ পরিবারের ৫ সদস্যের জানাজা দিতে পারেনি আমি। তার পর দিন মগরা গিয়ে ৫ জনকে পুড়িয়ে ফেলেছে।’ 

ইউনুছ আরো বলেন, মিয়ানমারে আমার ত্রিশকানি জমি, ১৫টি গরু, ছাগল, ধান, চাল সবই ছিল। কিছুই নিয়ে আসতে পারি নাই। 

হাসপাতালের বিছানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শুয়ে থাকা তাছলিমা বলেন, দৌড়ে পালানোর সময় সেনাবাহিনী গুলে ছুড়ে। আমার চোখের সামনে আমার ছেলে দুইটি মারা যায়। আমি কিছুই করতে পারিনি।

শুধু তাছলিমা নয়। তার মতো আরো ৭৮ জন নারী-পুরুষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটসহ বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তি। এর মধ্যে ২৬ নম্বর ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ৪৪ জন। আর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন । আর বার্ন ইউনিটে ৫ জন। 

আহতরা জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঘর-বাড়ির পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। নির্যাতন করছে মহিলাদের উপর। এখানে অনিশ্চিত জীবন যাপন হলেও মিয়ানমার ফিরতে চান না রোহিঙ্গারা। তবে বাংলাদেশের হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছের তারা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি এইচআইভি পজিটিভসহ যেসব রোগী আছে তাদেরকে মানবিক দিক বিবেচনায় বিনা খরচে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়