• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়েছে সেনাবাহিনী

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:৪৩ | আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৫৪
রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে ক'দিন ধরেই হিমশিম খাচ্ছিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তবে শনিবার সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পাল্টে গেছে পুরো চিত্র। নির্দিষ্ট স্থানে পরিকল্পিতভাবে দেয়া হচ্ছে ত্রাণ। এতে করে সবাই শৃঙ্খলার ভেতরে চলে এসেছে।

উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ জানান, সেনাবাহিনী যেইভাবে ত্রাণগুলো বণ্টনে শৃঙ্খলা করে দিয়েছে তাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। এক সপ্তাহ আগের চিত্র আর এখনকার চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে। আগে রোহিঙ্গারা যত্রতত্র ত্রাণের জন্য ঘুরত। এখন আর সেটি হচ্ছে না। 

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ত্রাণ দিচ্ছেন না। তাই রোহিঙ্গাদেরও নির্ধারিত স্থান থেকে ত্রাণ নিতে হচ্ছে। তিনি আশা করেন আগামী দুই দিনের ভেতর সেনাবাহিনী পুরো ত্রাণ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে।

জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বজুড়ে শান্তি রক্ষায় কাজ করছে। শরণার্থী শিবিরের বিষয়গুলোতে সেনাবাহিনী খুবই অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। সেনাবাহিনী এক দিনের ভেতরে ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩৬ বীর, ২৪ বেঙ্গল ও ৬৩ বেঙ্গল নামে ৩টি টিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীতে কাজ শুরু করে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক দফা রেকি ও পরিকল্পনা করে ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু স্থান নির্ধারণ করে সেনাবাহিনী।

উখিয়ায় নির্ধারিত ২ হাজার একর জমিতে ১৪ হাজার শেড নির্মাণ করার দায়িত্ব পেয়েছে সেনাবাহিনী। প্রতিটি শেডে ৬ জন করে ৮৪ হাজার পরিবার থাকার সুযোগ পাবেন। শেড নির্মাণের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।

এরইমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থাপিত হয়েছে নতুন সেনা ক্যাম্প। এই ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ রাশেদ আকতার জানান, সেনা সদস্যরা প্রথমে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ শুরু করে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও বিচ্ছিন্ন ত্রাণ বিতরণ এবং রাস্তায় রোহিঙ্গাদের অহেতুক জটলা সরিয়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পমুখী করা হয়েছে।

তিনি জানান, উখিয়া ডিগ্রি কলেজ সেনাবাহিনী অস্থায়ী দপ্তর খুলেছে। ওই অফিস থেকে ত্রাণ দিতে আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ বিভিন্ন স্থানে সুষম বণ্টন করা জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। রোববার থেকে একটি টিম শেড নির্মাণের কাজ শুরু করবে।

 

এসজে/এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়