close
ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২ পৌষ ১৪২৪

স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১২ আগস্ট ২০১৭, ১৯:৫৭
 

গাইবান্ধা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেবাশিষ সাহাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শনিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। 

নির্যাতন সইতে না পেরে উপ-পরিদর্শক স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় এই মামলা হয়। নিহত লাবনি সাহার বাবা গোবিন্দ চন্দ্র সাহা বাদি হয়ে এই মামলা করেন। 

বোনারপাড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দন্ডবিধির ৩০৬/৩৪ ধারায় এই মামলা রুজু করা হয়। 

মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন, নির্মল চন্দ্র সাহা, আলো রানী সাহা, প্রীতিরতা সাহা, তপন কুমার সাহা ও পূর্ণ চন্দ্র সাহা।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার বলেন, যেহেতু দেবাশীষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, জিআরপি পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নিবে। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের পক্ষ থেকেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা শহরের অদুরে ট্রেনের নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন লাবনি সাহা। সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলরুটের গাইবান্ধা সদর উপজেলার রাধাকৃঞ্চপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

গেলো মার্চ মাসে দেবাশিষ সাহার সঙ্গে একই জেলার ভুরুঙ্গামাড়ি উপজেলা শহরের গোবিন্দচন্দ্র সাহার মেয়ে লাবনি সাহার বিয়ে হয়।

বিয়ের সময় নগদ ১২ লাখ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়। চাকরির কারণে দেবাশিষ তার স্ত্রী লাবনিকে নিয়ে গাইবান্ধা জেলা শহরের পুরাতন হাসপাতাল লেনের ভাড়া বাসায় থাকতেন। 

লাবনির বাবা গোবিন্দচন্দ্র সাহা বুধবার সন্ধ্যায় জানান, দেবাশিষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। বিয়ের পর জানতে পারি, রাজশাহীতে লেখাপড়া করার সময় সুইটি রানী বিশ্বাস নামে এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। 

সুইটি রানী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের জগদিশ চন্দ্রের মেয়ে।

সুইটির সঙ্গে পরকিয়া প্রেম নিয়ে বিয়ের পর থেকে দেবাশিষের সঙ্গে আমার মেয়ের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। প্রায়ই তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও তাকে মারধর করা হতো। 

আমার মেয়ে আমাকে প্রায়ই অভিযোগ করতো যে, দেবাশিষ ওই মেয়েটিকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাবনির অনুমতি চায়। অনুমতি না দেয়ায় তাকে মারধর করা হয়। গেলো কয়েকদিন ধরে তার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। 

লাবনির বাবা আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মারধরের পর তাকে গাইবান্ধার ভাড়া বাসার ঘরে তালাবদ্ধ করে দেবাশিষ থানায় যান। 

পরে লাবনি মোবাইলে তার এক আত্মীয় ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তালা খুলে নিয়ে থানায় যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর লাবনি অভিমান করে গাইবান্ধা রেলস্টেশনের অদুরে রাধাকৃষ্ণ এলাকায় রেললাইনে যান। 

লাবনির বাবা গোবিন্দচন্দ্র সাহা অভিযোগ করেন, স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।       

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়