close
ঢাকা, রোববার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩ পৌষ ১৪২৪

পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ওরা (ভিডিও)

ইয়াছিন রানা সোহেল, রাঙামাটি
|  ১৯ জুন ২০১৭, ১৮:২৫ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৭, ১০:৩২
রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১১৫ জন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। বাড়ি ঘর হারিয়েছে শত শত মানুষ। 

এগারো বছরের কিশোর জিয়াদ। মা বাবা ভাই বোন নিয়েই থাকতো একই বাসায়। গেলো সোমবার প্রবল বর্ষণে পুরো ঘরটিই ভেঙে যায় চোখের সামনে। মাটির নিচে চাপা পড়ে মমতাময়ী মা-বাবা ও আদরের ছোট বোন। একই সঙ্গে মাটিচাপা পড়েন বোন-দুলাভাই ও ভাগ্নে-ভাগিনী। ধসে পড়া মাটির নিচে শুধু মাথাটাই দেখা যাচ্ছিল জিয়াদের। সেখান থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কিন্তু পরিবারের আর কাউকেই দেখা যায়নি। একদিন পর এক এক করে মিলে জিয়াদের পরিবারের মরদেহ। চোখের সামনে আপনজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে শোকে পাথর হয় জিয়াদ। আপনজন হারানোর বেদনায় বারবার মূর্ছা যায় সে। হাসপাতালের বেডে হুশ ফিরলেই মা বাবার কথা বলে সে। 

তার চাচার মেয়ে লিজা জানান, জিয়াদ আমার বড় চাচার ছেলে। পাহাড় ধসে পরিবারের সবাই মারা যায়। কোনো মতে জিয়াদকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। সবাইকে হারিয়ে সে এখন বাকরুদ্ধ।

প্রবল বর্ষণের ফলে ঘটতে পারে মারাত্মক ভূমি ধস। তাই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবার জন্য মসজিদের মাইকে অনুরোধ করে সিএনজি অটোরিকশা চালক নবী হোসেন। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেবার পর বাসায় ফিরেন নিজের পরিবারের সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়ার জন্য। কিন্তু ঘরে ঢুকে আর বের হতে পারেননি তিনি। পাহাড় ধসে পড়ে তার ঘরের উপর। মাটি চাপা পড়ে পরিবারের সবাই। উদ্ধারকর্মীরা নবী হোসেনকে জীবিত উদ্ধার করলেও অন্য সদস্যদের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। মুমূর্ষা নবী হোসেনকে প্রথমে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পরে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। নিয়তির নির্মম নিষ্ঠুরতার বলি হন তিনিও। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আত্মসমর্পণ করে যমদূতের কাছে।   

শিমুলতলি এলাকায় আলমগীরের মা হিসেবেই পরিচিত হাজেরা বেগম। পাহাড় ধসে পরিবারের ছয় সদস্যকে হারিয়ে পাগল প্রায় তিনি। একসঙ্গে এতগুলো সদস্যকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হাজেরা এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে সেখানে। 

এদিকে ছয় বছরের মিম আর তারই ছোট বোন সতের মাসের সুমাইয়া এখনো জানে না তাদের মা বাবা আর ফিরবেন না তাদের কাছে। পাহাড় ধসে সোমবার তার মা-বাবা দুজনেই মারা যান। রেখে যায় অবুঝ দুটি শিশু। বর্তমানে আশ্রয় কেন্দ্রেই এই অবোধ দু’শিশুর আশ্রয় হলেও ভবিষ্যতে এদের আশ্রয় কোথায় হবে জানেন না কেউ। 

একই অবস্থা শিশু ফারিয়া ও রাকিবের। মা আগেই মারা গিয়েছিল। তবে পাহাড় ধসে হারান একমাত্র অবলম্বন বাবাকে। তাদের শেষ ঠিকানা এখন ছোট চাচার কাছে। 

নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় পাহাড়ে এমন অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়েছে পরিবার পরিজনদের হারিয়ে। স্বজন হারা মানুষগুলোর শেষ গন্তব্য এখন ঠিক কোথায় তা তারাও বলতে পারছেন না। তবে এমন বিপদ যেনো আর কারো জীবনে না আসে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

গেলো সপ্তাহে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পাহাড় ধসে ১৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রাঙামটিতেই সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়