close
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭ | ০৩ ভাদ্র ১৪২৪

রাজপথে চলছে নৌকা

জয়নুল আবেদীন, চট্টগ্রাম
|  ১৩ জুন ২০১৭, ১৭:১২ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৭, ২০:২০
গেলো দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে হাঁটু থেকে বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা। নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, শান্তিবাগ, ছোটপুল, বড়পুল, হালিশহর, বাকলিয়া, চকাবাজারসহ বিস্তির্ণ এলাকা তলিয়ে যায় পানিতে। অন্যান্য এলাকাগুলোতেও হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকলেও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এবং সিডিএ আবাসিক এলাকায় অবস্থা খুবই করুণ। সিডিএ আবাসিক ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের কোথাও কোথাও বুক সমান পানি। সিডিএ আবাসিক এলাকার ভবনগুলোর নিচতলা প্রায় পানিতে ডুবানো। ঐ এলাকার দোকানগুলোতে কোমর পর্যন্ত পানি প্রতিরক্ষা দেয়াল দিয়েও রক্ষা পায়নি ব্যবসায়ীরা।

এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতের এখন অন্যতম বাহন হয়েছে নৌকা। কোথাও কোথাও রিকসাভ্যান। নৌকায় এক কিলোমিটার পথ যেতে জনপ্রতি ২০ টাকা এবং এর বেশি দুরত্বের পথে যেতে  মাঝিরা নিচ্ছে ৩০ টাকা। একই ভাড়া রিক্সা ভ্যানের ক্ষেত্রেও।

রাজপথে কোমর পানি হওয়ায় ভ্যানের উপর চেয়ার কিংবা টুলের উপর বসিয়ে মানুষ নিয়ে যাচ্ছেন ভ্যান চালকরা। এসব বাহনের পাশাপাশি রিক্সাতেও চলতে দেখা গেছে মানুষকে। তবে রিক্সার পা রাখার জায়গাটি ছিল পানিতে ডুবানো। এ যেন শহরের মাঝে এক নদী। ভোগান্তির সীমা নেই এসব এলাকার মানুষের।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের বেপাড়ী পাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ নুর নবী আরটিভি অনলাইনকে  জানান ১২বছর ধরে এই মসজিদে চাকরি করে যাচ্ছি। কিন্তু কয়েকবছর ধরে বর্ষায় বিপন্ন হয়ে পড়ে এই এলাকার মানুষ। নোংরা পানি ভেঙ্গে মানুষ মসজিদে আসেন। নামাজ পড়েও মানসিক শান্তি পান না পবিত্র ও অপবিত্রতার দোলাচলে। আগে তেমন পানি হতো না এই এলাকায়। গেলো কয়েক বছর ধরেই কোমর পানিতে চরম বিপাকে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। যেন দেখার কেউ নেই।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের পাশের পাড়া বেপারী পাড়ায়  ৪০বছর ধরে বসবাস করছেন বক্কর আলী । তিনি বলেন পানি এই এলাকার জন্য গজবে পরিণত হয়েছে। ঠিকমতো ইফতার ও সেহরি করতে পারছি না। রান্নাবান্না করতে যে কি কষ্ট বুঝানো যাবে না। এলাকার হোটেল থেকে কিনে খাবো সেই সুযোগও নেই। হোটেলগুলোতেও খাবার পাওয়া যায় না। চুলা ডুবে যাওয়ায় মহিলারা রান্নাবান্না করতে পারছে না। কোনমতে লাকড়ি দিয়ে বেঁচে থাকার জন্য কেবল রান্নাবান্না হচ্ছে আমাদের ঘরে।

সিডিএ আবাসিক এলাকার আফিয়া ভবনের বাসিন্দা সিন্টু চৌধুরী জানান, মহেশখালের বাঁধ বলে নয় আবাসিক এলাকার লোকেরা কেবল বর্ষা নয় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে আসছি গেলো ৮বছর ধরে। এই আবাসিক এলাকার মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচানোর কোন উদ্যোগ দেখতে পারছি না। সিটি করপোরেশন মাঝে মধ্যে ড্রেন ও আবাসিক এলাকার পাশের খালগুলো স্কেভেটর দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করতে দেখি। তাতে কোন লাভ হয় না।

এদিকে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের মানুষের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি তার সীমাবদ্ধতার কথা জানান।

তিনি বলেন নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ই্কুইপমেন্ট, জনবল ও আর্থিক সংকট রয়েছে সিটি করপোরেশন। যা আছে তা দিয়ে জনগণকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে ইকুইমেন্ট ভাড়া নিয়েও নগরীর খালগুলো থেকে ময়লা আবর্জনা ও মাটি অপসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

গেলো দুই বছর আগে করা আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডসহ ঐ এলাকার ৪টি ওয়ার্ড এলাকার মানুষের অন্যতম ভোগান্তির কারণ। মহেশখালির বাঁধ অপসারণের কথা রয়েছে আজ। এই বাঁধ ভাঙ্গা হলে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে জানান এলাকাবাসী।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়