close
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ০২ কার্তিক ১৪২৪

উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের ৬ স্কুলের ১০ হাজার শিক্ষার্থী

জয়নুল আবেদীন, চট্টগ্রাম
|  ০৯ এপ্রিল ২০১৭, ২০:৫৮
শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অপরাধে চট্টগ্রামের ৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এই নির্দেশের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এমন সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও।  

৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। জানা গেছে, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের নগরী চট্টগ্রামে সরকারি স্কুল কিংবা কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়নি ১৯৭৮ সাল থেকেই। চট্টগ্রামে হাতেগোনা যে ক'টি সরকারি স্কুল-কলেজ রয়েছে তাতেও সংকুলান হয়না সব শিক্ষার্থীর। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করেছে এমন কিছু হাতেগোনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভিড়টা চোখে পড়ার মতো। 

এই সুযোগে চিহ্নিত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভর্তির সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় বড় অংকের টাকা। নতুন বছরে ভর্তি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য। ভর্তি ফি ছাড়াও নানা অজুহাতে বাড়তি ফি আদায় বন্ধে এ বছর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালানো হয় চট্টগ্রামের প্রায় দেড়শ' শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অভিযানে নগরীর ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরে এইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠান জেলা প্রশাসক। 

৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান নিজেদের শুধরে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পার পেয়ে যায়। তবে ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতির কারণে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করা হয়। ৫টি প্রতিষ্ঠানকে কেনো একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করা হবে না এ মর্মে একটি চিঠি পাঠানো হয় মন্ত্রণালয় থেকে। একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজ, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজ, চিটাগাং আইডিয়াল স্কুল জামালখান, ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুল চট্টগ্রাম, মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

অন্যদিকে, শোকজ প্রাপ্ত ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ, চিটাগাং ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ. হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এবং বিএএফ শাহীন কলেজ চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ। ৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল হওয়ার ঘোষণায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকসহ কর্তৃপক্ষ। 

চিটাগাং আইডিয়াল স্কুলের অভিভাবক ডালিয়া বেগম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, হঠাৎ করে বছরের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আমাদেরকে চরম সমস্যায় ফেলে দেবে। এতোগুলো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে এ ধরণের সিদ্ধান্ত বিরূপ প্রভাব পড়বে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এমূহুর্তে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং মিমাংসা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

একই স্কুলের অন্য অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলছিলেন, নগরীর প্রায় ভাল স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বছরের মাঝখানে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিলে আমরা আমাদের ছেলে মেয়েগুলোকে কোথায় ভর্তি করাবো। সরকারের কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে বছরের প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের কোনো সমস্যা হতো না।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক রিয়াদ মাহমুদ আরটিভি অনলাইনকে জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সাধুবাদ পাবার যোগ্য। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক দফায় সতর্ক করা উচিত ছিল। তাছাড়া আমরা এখন ছেলে মেয়েদের নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়ে গেলাম। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মনের ওপর কুপ্রভাব পড়তে পারে।

চিটাগাং আইডিয়াল স্কুল কর্তৃপক্ষ আরটিভি অনলাইনকে জানান, আমরা মন্ত্রনালয়ের চিঠির ব্যাপারে অবগত হইনি। হয়তো শিক্ষাবোর্ড থেকে আমাদের কাছে সেই চিঠি আজকেই আসতে পারে। চিঠি পড়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫শ'র অধিক শিক্ষার্থী আছে। তাছাড়া শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে প্রায় দুইশ'র কাছাকাছি। আশা করছি এতগুলো শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই হয়তো আমাদের একটা সুযোগ দিবে সরকার।

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান একাডেমিক কো অর্ডিনেটর শিহাব ইকবাল আরটিভি অনলাইনকে জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা আমরা ম্যাজিস্ট্রেটকে সব তথ্য দেখিয়েছি। তাছাড়া জেলা প্রশাসনের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা শুধরে নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় আমাদের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু কেনো আমাদের স্কুলের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত হলো বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে আমাদের শ্ক্ষিা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি বহাল রাখতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে, এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আরটিভি অনলাইনকে তিনি জানান, সরকারের এ সিদ্ধান্ত পাল্টানোর কোন সুযোগ নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। একইসঙ্গে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নগরীর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একোমোডেট করার চেষ্টা করা হবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে যেনো কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবো। 

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়