close
ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২ পৌষ ১৪২৪

সাতকানিয়ায় ৫০ ইটভাটা, ছাড়পত্র কেবল ৮টির

শানে আলম সজল, চট্টগ্রাম
|  ১৬ মার্চ ২০১৭, ১৬:৫৯ | আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৭, ১৫:৪৪
বনাঞ্চল, কৃষি জমি আর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গড়ে উঠছে একের পর এক ইটভাটা। ৫০টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে মাত্র ৮টির। এসব ইটভাটার দখলে-দূষণে নিরুপায় সাধারণ মানুষ আর পরিবেশের ক্ষতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কোমলমতি শিশু-কিশোররা। উপজেলায় ফসলি জমির টপসয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে ওপরের অংশ কেটে ফেলায় জমির উর্বরশক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইট তৈরির মূল কাঁচামাল বা মাটি সংগ্রহে উজাড় করা হচ্ছে কৃষিজমি আর বনাঞ্চল। ফলে ক'বছরের ব্যবধানেই বদলে গেছে পার্বত্য এ জনপদের রূপ-প্রকৃতি। এমনকি ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী  আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যেক এলাকা এক কিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম থাকলেও তার কোনো তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইট-ভাটা।  নিষিদ্ধ প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ব্যবহার ছাড়াও এসব ইট-ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলের কাঠ। ফসলি জমিতে তৈরি করা বেশিরভাগ ইট-ভাটার নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসল উৎপাদন, বাড়ছে মানুষের সাস্থ্যঝুঁকিও। 

সাতকানিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. হারেছ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে সাতকানিয়ার মতো এতগুলো ইটবাটা অন্য কোন উপজেলায় নাই। যার যেমন ইচ্ছে ইটবাটা তৈরী করে টাকার কড়ি করছে। এদিকে আমরা সাধারণ জনগণ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সালেহ শাহ আরটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন, ইটভাটার জন্য সাতকানিয়ার ফসলি জমি থেকে প্রত্যেক বছর মাটি খননের মহোৎসব চলে। মাটি এমক ভাবে কাটা যাতে ফসল হবে তো দুরের কথা সেখানে সারা বছর পানিতে ডুবো থাকে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসেব মতে, উপজেলায় ৫০ টি ইটভাটা থাকলেও অনুমতি আছে মাত্র ৮টির। ফসলি জমির 'টপসয়েল' কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ওপরের অংশ কেটে ফেলায় জমির উর্বর শক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই ইট ভাটাগুলোতে অভিযান চালাবেন তারা। 
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্ষমতা সল্পতা। তার পরেও আমরা গেলো ফেব্রুয়ারি মাসে সাতকানিয়া লোহাগাড়ায় ৬টি ইটভাটাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। পুরো চট্টগ্রামে ফেব্রুয়ারি মাসে ৬০টি ইটভাটাকে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছি। তবে আধুনিক যুগে সনাতন পদ্ধতিতে সাতকানিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় এখনো ইটভাটায় ইট তৈরী করা হচ্ছে। বনের গাছ নিধন করে ইট তৈরীর কাজ করছে। 

ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটাগুলো কিভাবে চলে জানতে চাইলে এ পরিবেশ কর্মকর্তা বলেন, হাইকোর্টে রিট পিটিশন নিয়ে এসব ইটভাটা কাজ করছে। তবে রিট পিটিশন 
শেষ হলে আর চালাতে পারবে না বলেও জানান জমির উদ্দিন।। 

সাতকানিয়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ জানান, ইটভাটা বিভিন্ন অনিয়ম আর সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগের তদন্ত চলছে। 
ইট-ভাটা, সঙ্গে পরিবেশের এমন দখল-দূষণ বেড়ে চললে কয়েক বছরেই এ অঞ্চলে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যঝুকি ও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা । 


এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়