• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার চুক্তি সই হয়

আরটিভি অনলাইন
|  ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৩৯
আজকের দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি যৌথ সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। সিদ্ধান্ত হয় মুক্তিবাহিনী ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে যুদ্ধ করবে। 

মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী আরো জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যায় প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বীকৃতি আদায়ে।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার নূরুল আমিনকে প্রধানমন্ত্রী করে কেন্দ্রে কোয়ালিশন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। 

গভর্নর আবদুল মালেক এক বার্তায় ইয়াহিয়াকে জানায়, যশোর বিপর্যয়ের ফলে প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের পতন প্রায় সম্পন্ন এবং মেঘনার পূর্বদিকের পতনও সময়ের ব্যাপার; এ অবস্থায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রতিশ্রুত সামরিক সহায়তা না পৌঁছায়, তবে জীবন রক্ষার জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আলোচনা শুরু করা বাঞ্ছনীয়। এ বার্তা চরম দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় ইয়াহিয়াকে।  

এদিন বাংলাদেশকে সহযোগিতার কারণে আমেরিকা ভারতকে অর্থনৈতিক সাহায্য বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সব বাধাকে অতিক্রম করে বাংলার দামাল ছেলেরা যুদ্ধ চালিয়ে যায় পাকসেনাদের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে আজ গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল গোপালগঞ্জে পাক হানাদার বাহিনী প্রবেশ করে সদর উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ে মিনি ক্যান্টনমেন্টে স্থাপন করে। এখান থেকেই বিভিন্নস্থানে শুরু করে হত্যা, নির্যাতনসহ বাড়ি-ঘর লুটপাট। মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠকদের ধরে এনে হত্যা শেষে মরদেহ ওই পুকুরে ফেলে রাখত পাকহানাদাররা। পরে ধীরে ধীরে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং পরিকল্পনা করেন মিনি ক্যান্টনমেন্টে হামলার। 

৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করে। টের পেয়ে পাক সেনারা মিনি ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুক্তির আনন্দে সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। 

গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস

আজ (৭ ডিসেম্বর) গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ৯ মাস যুদ্ধ করে গাইবান্ধাকে মুক্ত করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। ফলে বিজয়ের আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধারা ও সাধারণ মানুষ।

৭১’ এর এই দিনে কোম্পানি কমান্ডার বীর প্রতীক মাহবুব এলাহী রঞ্জুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসী ঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরে প্রবেশ করে। তাদের আসার খবর পেয়ে আগের রাতেই গাইবান্ধা শহরের স্টেডিয়ামে অবস্থিত পাক সেনা ক্যাম্পের সৈনিকরা রংপুর ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে পালিয়ে যায়। ফলে বর্তমান স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ ও তৎকালীন এসডিও মাঠে মুক্তিযোদ্ধা জনতার মিলন মেলায় পরিণত হয়।

সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস আজ  

সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস ৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় সাতক্ষীরা। দিনটি ঘিরে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতেই পালাতে শুরু করে পাকবাহিনী। পরদিন সকালে রাজাকার আলবদর বাহিনী তাদের অস্ত্র ও মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর ভোর থেকেই মুক্ত হওয়ার সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। 

দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদেও পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ১০ টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়