• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারায় টিআইবি’র আপত্তি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০২ মে ২০১৮, ১৫:২২ | আপডেট : ০২ মে ২০১৮, ১৫:৩৭
বাক-স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সাংবিধানিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রাখতে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারায় আপত্তি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। এ ধারাগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি যেসব ধারার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, সেগুলো হলো ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৮।

আগামীকাল ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

খসড়া আইনটি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টজনের সঙ্গে আলোচনা করতেও সংসদীয় কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। ধারাগুলো সংশোধনী ছাড়া প্রণীত হলে সার্বিকভাবে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সম্ভাবনা ধূলিসাৎ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : যত দ্রুত ডিজিটাল হচ্ছি ততই অপরাধ বাড়ছে: মোস্তাফা জব্বার 
--------------------------------------------------------

বিবৃতিতে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সব নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যৌক্তিক বিধিনিষেধ সাপেক্ষে সংবিধান মতপ্রকাশের যে স্বাধীনতা দিয়েছে, তা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার কাছে অসহায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীসহ মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই একদিকে অভূতপূর্ব ভীতি ও অন্যদিকে ভীতিপ্রসূত স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিয়েছে, যা বাক-স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীন দায়িত্ব পালনের প্রধান অন্তরায় বলে বিবেচিত হচ্ছে।

খসড়াটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টজনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও ধারাগুলো সংশোধন না করেই সংসদে উত্থাপিত হওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ আইনের ফলে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য প্রকাশ যেমন অসম্ভব হয়ে পড়বে, তেমনি এসব অপরাধের সুরক্ষার মাধ্যমে অধিকতর বিস্তৃতি ঘটাবে।

সরকার-ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি সে ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ অর্জনে সরকারের পাশাপাশি জনগণ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমসহ সব নাগরিক যাতে সব ধরনের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন ও বাধাহীন মতামত প্রকাশ করতে পারে, তার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যায়ে খসড়া আইনটির সংশোধনের দায়ভার সংসদীয় কমিটির ওপর ন্যস্ত হওয়ার কারণে কমিটিকে অবশ্যই ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন :

এমসি/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়