• ঢাকা সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

আপাতত মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৬ মে ২০১৮, ১১:০৫ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ১১:০৯
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ  আপিল বিভাগ বহাল রাখলেও আপাতত তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় শোন অ্যারেস্ট থাকায় তাকে আরও কিছুদিন কারাবন্দী থাকতে হবে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখার রায় ঘোষণার পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় শোন অ্যারেস্ট থাকায় আপাতত তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।

মওদুদ আরও বলেন, তবে আমরা আশা করছি শিগগিরই তিনি কারামুক্তি পাবেন। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে জামিন পাওয়ার পর আশা করি নিম্ন আদালতেও তিনি জামিন পাবেন।

এদিকে কোর্টের নথিপত্র থেকে জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকায় ২টি, কুমিল্লায় ২টি এবং নড়াইলে ১টি মামলাসহ মোট ৬টি মামলায় শোন অ্যারেস্ট রয়েছে। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত মামলায় জামিন পেলেও খালেদা জিয়া কারাবন্দী থেকে মুক্তি পেতে হলে এসব মামলায় জামিন পেতে হবে।

আজ বুধবার সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় দেন।  বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

খালেদার জামিন আবেদনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

গত ১২ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। পাশাপাশি এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত।

এ জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন। অন্যদিকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা, যা সেদিন চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে।

আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। ১৯ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত রেখে শুনানির জন্য ৮ মে নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এরপর থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়