• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

শহিদ মিনারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:০২ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৫৭
একদিন বাদেই একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান ভাষা শহিদ দিবস। জাতি স্মরণ করবে ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিকদের। আর তাই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারকে সাজানো হচ্ছে বর্ণিল সাজে। শনিবার থেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং ও সাজ-সজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। সারা বছর অবহেলায় ও অযত্নে পড়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি এখন যেনো নতুন রূপ পাচ্ছে। সক্রিয় রয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে এবার শহিদ মিনারকে ঘিরে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। 

এদিকে, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

রোববার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে দেখা গেছে, চলছে ধোয়া মোছার কাজ। কেউ কেউ ব্যস্ত রং করতে। তৈরি হচ্ছে স্টেজ। এখন থেকে কাউকে মূল বেদীর দিকে যেতে দেয়া হচ্ছেনা। নিরাপত্তার খাতিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা আশপাশের অবস্থা অবলোকন করছেন।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং ও সাজ-সজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। এ সময় শহিদ মিনারে কোনো সংগঠন কর্তৃক কোনো প্রকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। অমর একুশের ভাব-গাম্ভীর্য এবং সৌন্দর্য রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দেয়ালসমূহে কোনো ছবি, পোস্টার ও ব্যানার না লাগানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি) রোববার সকালে শহিদ মিনারে যেতে তাদের রুট-ম্যাপ প্রকাশ করেছে। রুট-ম্যাপ অনুযায়ী সবাইকে চলার জন্য আহ্বান করেছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। 

আজিমপুর গোরস্থানে যাওয়ার রাস্তাঃ

নাজিম উদ্দিন সড়ক, বাবুপুরা সড়ক (পুরানো যাদুঘরের সামনের রাস্তা), কলেজ সড়ক (ফজলুল হক হলের পূর্ব পার্শ্বের রাস্তা), এলাকার জনসাধারণ আজিমপুর গোরস্থানে যাওয়ার জন্য দেওয়ান বাজার সড়ক (বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠের পূর্ব পার্শ্বের রাস্তা), কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, টিএসসির মোড়, নীলক্ষেত সড়ক, নিউমার্কেট ক্রসিং, পিলখানা সড়ক হয়ে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেইট দিয়ে যাওয়া যাবে।

আব্দুল গণি সড়ক, তোপখানা সড়ক এবং শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী (পার্ক এভিনিউ) এর জনসাধারণ পুরাতন হাই কোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল ক্রসিং, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, টিএসসির মোড়, নিউমার্কেট ক্রসিং, পিলখানা সড়ক দিয়ে ১ নম্বর গেইট হয়ে গোরস্থানে যাওয়া যাবে।

লালবাগ, আজিমপুর, পলাশী ও চকবাজার এলাকার জনসাধারণ আজিমপুর সড়ক, নিউমার্কেট ক্রসিং, পিলখানা সড়ক, নিউ মার্কেট ১ নম্বর গেইটের পাশ দিয়ে গোরস্থানের নতুন গেইটের ভেতর দিয়ে যাওয়া যাবে।

বকশী বাজার সড়ক, চকবাজার, উর্দূ রোড এবং ঢাকেশ্বরী এলাকার জনসাধারণ আজিমপুর সড়ক, নিউমার্কেট ক্রসিং, পিলখানা সড়ক, নিউ মার্কেট ১ নম্বর গেইটের পাশ দিয়ে গোরস্থানের নতুন গেইটের ভিতর দিয়ে যাওয়া যাবে।

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকার জনসাধারণ দোয়েল ক্রসিং, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট ক্রসিং, পিলখানা সড়ক, নিউমার্কেট ১ নম্বর গেইটের পাশ দিয়ে গোরস্থানের নতুন গেটের ভিতর দিয়ে যাওয়া যাবে।

আজিমপুর গোরস্থান থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে যাওয়ার রাস্তা

আজিমপুর গোরস্থানের মূল গেইট থেকে (গোরস্থানের দক্ষিণ পার্শ্বে) বের হয়ে আজিমপুর সড়ক, আজিমপুর বেবী আইসক্রিম মোড়, পলাশী ক্রসিং, এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনারে যাওয়া যাবে।

আজিমপুর গোরস্থানে না গিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে যাওয়ার রাস্তা

বকশী বাজার, চকবাজার, উর্দু রোড, ঢাকেশ্বরী সড়ক, নাজিম উদ্দিন সড়ক, বাবুপুরা সড়ক এলাকার জনসাধারণ যারা গোরস্থানে না গিয়ে সরাসরি শহীদ মিনারে যেতে চান তারা পুরাতন রেলওয়ে হাসপাতাল সড়ক, পলাশী ক্রসিং, এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনারে যাওয়া যাবে।

আব্দুল গণি সড়ক, তোপখানা সড়ক, শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী (পার্ক এভিনিউ) এলাকার জনসাধারণ গোরস্থানে না গিয়ে শহীদ মিনারে যেতে চাইলে তারা হাই কোর্ট, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, টিএসসির মোড়, নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি, পলাশী ক্রসিং, এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনারে যাওয়া যাবে।

যেসব ছাত্র-ছাত্রী ও জনসাধারণ রোকেয়া হল, সামসুন্নাহার হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন এলাকা থেকে সরাসরি শহিদ মিনারে যেতে চান তারা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি, পলাশী ক্রসিং, এসএম হল এবং জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহিদ মিনারে যাওয়া যাবে।

পুলিশের নির্দেশনায় থাকা রাস্তা দিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সবার চলাচলের সুবিধার জন্য উপরে বর্ণিত রাস্তায় কোনো প্রকার প্যান্ডেল তৈরি না করার জন্য অনুরোধ করেছে পুলিশ।

এছাড়া, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৫ এর শৃঙ্খলা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে দোয়েল চত্বর থেকে কোন প্রকার ব্যানার, ফেস্টুন বা ফুলের তোড়া নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার বা শহিদ দিবস উদযাপনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দিকে প্রবেশ করা যাবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আমজাদ আলী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, কোনো ধরনের বিশৃংখলা যাতে না হয়, সেজন্য কড়া নজরদারিতে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। তাদের পাশাপাশি কাজ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি শাখাটি।

এসজে/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়