• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

পোশাকে ৫২’র ছাপ, বাড়ছে ক্রেতার চাপ

মিথুন চৌধুরী
|  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:১০ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:৫২
সালটা ১৯৫২। ২১ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুনের আগুনঝরা রোদ। বুকের তাজা রক্তে রাজপথ ভিজিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা ইতিহাস রচিত করে। এনে দেয় মাতৃভাষার সম্মান। সেই অমর একুশে চেতনা শুধু মায়ের ভাষাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়ে বাঙালির সংস্কৃতিতে। 

একুশের চেতনায় বাঙালি আপাদমস্তক নিজেকে সাজাতে চায় মাতৃভূমির রঙে-রূপে। যাতে ফুটে ওঠে তাদের রুচি,  চেতনা ও ভালোবাসা। রক্তের দামে কেনা বর্ণমালার প্রতি বাঙালির চিরঞ্জীব ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে নানা রঙে-ঢঙে।

আসছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তাই একুশের চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক তৈরি করেছে ফ্যাশন হাউজগুলো।

রাজধানীর ফ্যাশন হাউজগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকান ও বুটিকগুলো তৈরি করছে নতুন ডিজাইনের পোশাক। এসব পোশাকে ব্যবহৃত রং, কাপড়, ডিজাইন সবকিছুতেই রয়েছে ভাষা আন্দোলন ও নান্দনিকতার ছোঁয়া। অ আ ক খ বর্ণমালাই যেনো তরুণ প্রজন্মের পছন্দের পোশাক। 

একুশের আয়োজনে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে ছেলেদের জন্য থাকছে নানা রঙের টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, চাদর এবং মেয়েদের জন্য থাকছে ফতুয়া, টপস, সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি। শিশুদের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। এসব পোশাকের জমিনে নানা রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলা ভাষা ও আন্দোলনের ইতিহাস। একুশের পোশাকের নকশায় বর্ণমালা, ভাষা ও ভাষা শহিদদের পাশাপাশি দেশজ চেতনা ও ঐতিহ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। 

শাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে সুতি, তাঁত, নকশিকাঁথা ফোঁড়, ব্লক, স্প্রে-ব্লক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, অ্যামব্রয়ডারি। প্যাটার্ন ভেরিয়েশনে থাকছে ট্রেন্ডি এবং ডিজাইনে করা হয়েছে দেশীয় ঐতিহ্য।

এছাড়া সালোয়ার-কামিজে সাদাকালোর প্রচলিত ধারা বদলে যুক্ত হয়েছে ধূসর, সাদা-লাল, কালচে সবুজ ও তামাটে রং।  বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ঘন বুনোটের অ্যামব্রয়ডারি, নানা রঙের সুতার নকশায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বর্ণমালার সাজে ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ডিজাইন। সাদাকালোর মিশ্রণে করা হয়েছে মানচিত্র, উক্তি, কবিতা ও অক্ষরমালা। 

সাদাকালো
মহান মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে ফ্যাশন হাউজ সাদাকালোর পোশাকে একুশ সংখ্যাটিকে বিভিন্ন নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া একুশ নিয়ে লেখা বিভিন্ন গান বা কবিতার পঙক্তি শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টি-শার্ট, বিভিন্ন ধরনের মগ ও ব্যাগে শোভা পাচ্ছে।
একুশ উপলক্ষে সাদাকালোতে একই ডিজাইনে পরিবারের সব সদস্যদের প্যাকেজ পোশাক পাওয়া যায়।

রঙ
রঙের আয়োজনে থাকছে শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, স্কার্ট-টপস, ওড়না, ব্লাউজ পিস, শাল, সিডি, মগ ইত্যাদি।

বিবিআনা
কবিতা, পঙক্তিমালা এবং দেশীয় কিছু অলংকরণ নিয়ে পোশাকের ডিজাইন করেছে বিবিআনা। সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, ব্লাউজ পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া, শিশুদের পোশাক, বিভিন্ন ঢঙের সালোয়ার, কুর্তি, দোপাট্টা পাওয়া যাবে এখানে। 

নগরদোলা 
নগরদোলা এনেছে সালোয়ার-কামিজ, ত্রয়ী, কুর্তি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাড়ি। থাকছে শিশুদের শাড়িসহ সব ধরনের পোশাক। ব্যবহৃত হয়েছে কালো, সাদা, লাল প্রভৃতি রঙ।

কারুপল্লী
কারুপল্লী এনেছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক। ব্যবহৃত হয়েছে সাদাকালো রং। এছাড়া একুশের নানা প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে পোশাকের ক্যানভাসে।

ফড়িং
ফ্যাশন হাউজ ফড়িং একুশের বিভিন্ন চিত্র নিয়ে বেশকিছু পোশাকের ডিজাইন করেছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, টি-শার্ট ইত্যাদি পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে কালো, সাদা, ধূসর প্রভৃতি রঙ। এসব পোশাকে কাজ করা হয়েছে এমব্রয়ডারি, ব্লক, অ্যাপলিক ও হাতের কাজ।

আড়ং
লাল, কালো, সাদা রঙের সঙ্গে আড়ংয়ের পোশাকে আরো আছে ধূসর, সবুজ, নীল, কমলা রঙের ব্যবহার। চুড়িদার সালোয়ারের সঙ্গে আছে ফুলহাতা কামিজ। এমব্রয়ডারি, অ্যাপলিক, স্ক্রিনপ্রিন্ট ইত্যাদি মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে।

অন্যমেলা
সিল্ক, অ্যান্ডি, তাঁতের সুতি কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে অন্যমেলার পোশাক। শহিদ মিনারের প্রতিকৃতি, কবিতা ও গানের পঙক্তি দিয়ে নকশা করা হয়েছে।
বসুন্ধরা সিটিতে রঙ ফ্যাশন হাউজে পাঞ্জাবি দেখছেন অরণ্য। তিনি বলেন, আমি পোশাকের মধ্যে এটি বেশি পছন্দ করি। নানা রঙ-ঢঙের পাঞ্জাবি পরি। ২১ ফেব্রুয়ারির দিন সব বন্ধুরা ফুল দিতে শহিদ মিনারে যাবো। তাই নিজের জন্য ও বন্ধুদের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি।  

খুব মনোযোগ দিয়ে সাদাকালো ফ্যাশন হাউজে শাড়ি দেখছিলেন সুস্মিতা চৌধুরী। কবিতা ও গানের পঙক্তি দিয়ে নকশা করা শাড়ি দেখছিলেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে বলেন, সাদাকালো মেয়েরা সচরাচর পছন্দ করে না। কিন্তু নান্দনিকতার ছোঁয়া ও বর্ণমালা নতুন রূপ দিয়েছে শাড়িতে। আর ভাষার মাসে অঙ্গ জুড়ে মাতৃভাষার ছোঁয়া নিজের ভেতরে অন্য স্বাদ আনে। নিজেকে মাতৃভাষার বাহক মনে হয়। সুস্মিতা নিজের পাশাপাশি সন্তানের জন্যও বেশ কয়েকটি কাপড় কেনে।

এমসি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়