• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

বইমেলার সৌন্দর্যে অব্যবস্থাপনা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৩ | আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৫:২২
ফেব্রুয়ারি মাস বাঙালির জীবনে প্রেরণার উৎস। ১৯৫২ সালের এ মাসে ভাষা আন্দোলনে সফলতা না এলে হয় তো স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না। তাই বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারি এলেই ছোট-বড় সবাই শেকড়ের সন্ধান করে। ২১’র প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে। বিশ্বের মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়ায় সোনার বাংলাদেশ। কিন্তু সেই একুশের গ্রন্থমেলায় আসা বইপ্রেমীদের জন্য তৈরি বিনোদন কেন্দ্রে নেই কোনো সু-ব্যবস্থাপনা। যে যার ইচ্ছে মতো এসব জায়গা ও স্থাপনা ব্যবহার করছেন।

গেলো দু’বছর অমর একুশে বইমেলার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। বাংলা একাডেমি চত্ত্বর ছাড়িয়ে প্রাণের মেলা এখন বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

গ্রন্থমেলায় আগত বইপ্রেমীদের বিনোদন দিতে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। সবুজায়ন, পানির ঝর্ণা, বসার স্থান রয়েছে বইমেলায়। তবে এসবের সু-ব্যবস্থাপনায় নেই কোনো পদক্ষেপ। যেমন তেমন করে ব্যবহার হচ্ছে মেলার সৌন্দর্য বর্ধনে তৈরি এসব স্থাপনা।

বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ঢুকতেই চোখে পড়বে দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা। তবে এটি তৈরি করেই যেনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায় শেষ। রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। মেলায় আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ব্যস্ত ঝর্ণার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে। কেউবা পানি ছিটাতে ব্যস্ত। তবে এর মাধ্যমে যে মেলার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে সে বিষয়ে কারো নজর নেই। এতে কাদামাটির হচ্ছে প্রবেশ পথে। 

জানতে চাইলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন তাই বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছি। স্মৃতি ধরে রাখতে কিছু ছবি তুলছি সবাই মিলে। তবে ঝর্ণা থেকে দূরে ছবি তোলা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ঝর্ণা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য। তাই সবাই এখানে এসে ছবি তুলছে, মজা করছে। আমরাও সবাই মিলে একটু ফ্রেমবন্দি হলাম।

পরিবার নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা স্কুল শিক্ষিকা হোসনে আরা বলেন, আসলে মেলায় এসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। তাই অনেক সময় আমাদের সবারই ভুল হয়ে যায়। যদিও মেলার সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মেলার আয়োজক কমিটি ও ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের উচিত মেলার নিরাপত্তা, সৌন্দর্য ও বিনোদনের জন্য নির্মিত স্থানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা। তাহলে আগত ক্রেতা-দর্শনার্থীরাও সৌন্দর্য নষ্ট করার সুযোগ পেতো না। কারণ, বাঙালির অস্তিত্বে মিশে আছে মাসজুড়ে চলা এ মেলা।

এইচটি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়