• ঢাকা শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫

জৌলুস হারিয়ে ধুকছে ছোটকাগজ

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:৪৩ | আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:০৬
বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউজের পশ্চিম পাশেই লিটলম্যাগ চত্বর। একসময় লেখক-পাঠকদের আনাগোনায় মুখর থাকতো এ চত্ত্বর। এখন সে অবস্থা নেই। বইমেলার অর্ধেক শেষ হয়ে আসলেও এখনো জমে ওঠেনি এ চত্বরটি। ছোট কাগজ অর্থাৎ লিটলম্যাগগুলোতে এখন লেখকই পাঠক, পাঠকই লেখক। 

বুধবার চত্ত্বরটি ঘুরে দেখা যায়, বেচাবিক্রিহীন অবসর সময় পার করছেন ছোটকাগজের কর্মীরা। তারা বলছেন, বেচাকেনা তেমন একটা হচ্ছে না। মেলার অন্য অংশে ব্যপক পাঠক সমাগম থাকলেও এখানে পাঠকদের আনাগোনা কম।

দেশে ষাটের দশকে ছোট কাগজের বিস্তার ঘটে। প্রথাবিরোধী তরুণ লেখকেরা এটাকে আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন। নিজেদের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখে নিজেরাই প্রকাশক হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। সেময়ের অনেক কবি সাহিত্যিকই এখন পাঠকদের কাছে আস্থার নাম।

বইমেলায় প্রথমবারের মত ‘চর্যাপদ’ নামে একটি প্রকাশনা একাডেমির পুকুরপাড়ে বসে ১৯৮৭ সালে প্রথম টেবিল নিয়ে বসে। একসময় একাডেমিও ছোটকাগজগুলোকে আলাদা জায়গা দেয়। ধীরে ধীরে জমে ওঠে লিটলম্যাগ চত্ত্বর। তবে কালের পরিক্রমায় কমে এসেছে ছোট কাগজ। প্রযুক্তিগত কারণসহ নানাভাবে আগ্রহ হারাচ্ছেন ছোট কাগজের প্রকাশকরা। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরমেন্স স্টাডিজের শিক্ষার্থী ও প্রমিথিউসের সম্পাদক রাগীব নাঈম বলেন, লিটল ম্যাগের মান এখন অনেক কমে এসেছে। ফলে পাঠকরাও আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাছাড়া তরুণরা চাইলে নিজের বই বের করতে পারে। লেখা প্রকাশে ছোট কাগজের সেভাবে দরকার পড়ে না। তাহলে তরুণরা কেন ছোট কাগজে আগ্রহী হবে?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জয়ধ্বনি সম্পাদক দ্বিপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল বলেন, ছোটকাগজগুলো এখন জৌলুস হারিয়েছে। সবগুলো কাগজেরই কমবেশি রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকে। এখন সেই আদর্শবাদী ধারাটা ক্ষয়িষ্ণু। ফলে কাগজের আবেদনটা কর্পোরেট ধারার পাঠকের কাছে কম।  

বিজ্ঞান পাঠের নির্বাহী সম্পাদক সুবীর বৈরাগী বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, বিষয়ভিত্তিক কিছু ছোটকাগজ এখনো ভাল চলছে। হয়তো সেভাবে পাঠক কাটতি নেই। তবে ছোট কাগজের দরকার আছে। লেখকের মান উন্নতি করার সুযোগ এখান থেকেই পাওয়া যায়। এটা সত্য যে, স্পন্সর ছাড়া কাগজ চালানো কঠিন হয়ে যায়। কিছু কাগজ ভালভাবে বের হলেও বেশিদিন টিকতে পারেনা।

ছোটকাগজ আন্দোলনের কর্মী শাদ আশরাফ বলেন, বিক্রি কম। ছোট পরিসরেই ছোটকাগজের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এর আবেদন এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

এসজে/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়