• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়া

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:১৮
সোমবার বসন্তের রঙ ছড়িয়েছে একুশে বইমেলাতেও। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণ আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেমেছিল তারুণ্যের ঢল। প্রায় সবাই হলুদ পোশাকে মোহনীয় সাজে এসেছিলেন বইমেলায়। বিক্রিও ছিল জমজমাট।  

বিকেল ৩ টা থেকে মেলা শুরু হবার কথা থাকলেও বেলা একটা থেকেই বইমেলার প্রবেশমুখে ছিল দারুণ ভিড়। বইমেলা ছাড়াও দোয়েল চত্বর এবং শাহবাগ-টিএসসি সড়কেও তরুণ-তরুণীরা জমিয়ে দিয়েছেন আড্ডা। মেলার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরে আগত তরুণ-তরুণীদের হাতে ফুল, কারওবা খোঁপায় ফুল। প্রায় সবাই লাল, হলুদ, সবুজ, বেগুনী, কমলা বা সাদায় নিয়েছেন বাসন্তী সাজ। 

হলুদ শাড়ি পরে আর মাথায় ফুল দিয়ে বইমেলা ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মিরপুরের মৃত্তিকা। তিনি বলেন, সকালেই এসেছি। ক্যাম্পাস ঘুরে কিছুক্ষণ আগে বই মেলায় এলাম। চারুকলায় ছিলাম। বসন্ত উৎসব দারুণ লাগছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিপিকা বর্মন মিষ্টি বলেন, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে খুব মজা করছি। পছন্দের বই কিনলাম। বাসন্তী সাজে আসলাম, বন্ধুরাও এসেছে। বসন্ত আর বইমেলা দুটোই চমৎকার। 

ধামরাই থেকে আসা আরিফুল ইসলাম জানালেন, ভীষণ ভাল লাগছে। বন্ধু-বান্ধব মিলে বেশ জমিয়ে কাটছে দিনটি। সকাল থেকে বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরলাম। বইও কিনেছি। 

নির্ণায়ক পাবলিকেশনসের বিক্রয়কর্মী আহসান আহমেদ অনিক জানান, প্রতিবছর ফাল্গুন ও ভালবাসা দিবসের প্রতীক্ষায় থাকি আমরা। আজকে পহেলা ফাল্গুনে পুরো মেলা পরিপূর্ণ। বিক্রি মাত্রা ছাড়িয়েছে। 

মেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, লেখক প্রকাশক সবাই খুশি। বইমেলায় অতিথি বাড়লে আমরাও খুশি হই। বেঁচে বিক্রি বাড়ে। সবাই এমন দিনই চায়।

এদিকে, অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১৩তম দিনে নতুন বই এসেছে ৭১টি এবং ১৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মদনমোহন তর্কালঙ্কারের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শফিঊল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. সফিউদ্দিন আহমদ এবং ড. রতন সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলা সাহিত্যের বিস্মৃতপ্রায় একজন কবি, বাংলা ভাষা-ভাষী শিশুদের জন্য ৩ খণ্ড ‘শিশুশিক্ষা’ প্রণয়নকারী, নারীশিক্ষার প্রবক্তা, বিধবা-বিবাহের সক্রিয় সমর্থক, কুসংস্কারমুক্ত মানুষ ছিলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার। মদনমোহন যখন সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়নরত তাঁর কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে অধ্যাপকম-লী তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন ‘কবি রত্নাকর’, তাঁর বন্ধুরা উপাধি দিয়েছিল ‘তর্কালঙ্কার’। 

তিনি কলকাতায় থাকতে মহাত্মা ডিরোজিওর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। প্রাবন্ধিক বলেন, মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন আপাদমস্তক একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব। 

আলোচকবৃন্দ বলেন, উনিশ শতকের বাংলা-রেঁনেসার সন্তান মদনমোহন তর্কালঙ্কার একজন প্রগতিশীল মানুষ ছিলেন। রক্ষণশীলতা ও ধর্মান্ধোতার শৃঙ্খল ভেঙে সমাজকে মুক্ত করার জন্য তিনি আত্মনিবেদন করেছিলেন। নারীশিক্ষার প্রসার ও বিধবা বিবাহ প্রচলনে অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম সমাজের অপশক্তি ও কুসংস্কার দূর করার লক্ষ্যে আমাদের ভাবী প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাবার পথ দেখাবে সবসময়। 

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, উনিশ শতকের প্রথম দিকে বাংলায় যে নবজাগরণের সূচনা হয় তাঁদের অন্যতম মদনমোহন তর্কালঙ্কার। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, সৃষ্টিশীল ও মননশীল। শিশুশিক্ষা থেকে নারীশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা সর্বক্ষেত্রেই রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। সবমিলিয়ে তিনি একজন রেনেসাঁ-মানব। 

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল বেগম রাহিজা খানম ঝুনু’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস লি. (বাফা)’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুবীর নন্দী, জীনাত রেহানা, দীনাত জাহান মুন্নী, অনন্যা আচার্য্য এবং সঞ্জয় কুমার দাস। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন মিলন ভট্টাচার্য্য (তবলা), মো. শফিউজ্জামান (কী-বোর্ড), রিচার্ড কিশোর (গিটার) এবং মো. মানিক (অক্টোপ্যাড)। 
    
এসজে/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়