• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

আটচল্লিশেই ভাষা আন্দোলনের প্রথম গান

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৩৯ | আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৫১
সাতচল্লিশের দেশভাগের পর ভাষা প্রশ্নে বড় বিভেদ দেখা দেয়। সেই আন্দোলন ক্রমশই ছড়িয়ে পড়েছিল সবখানে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাঙতে গিয়ে শহীদ হন বেশ ক'জন। তাদের স্মরণে সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটিই একুশের গান হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু তারও আগে লেখা হয়েছিল ভাষার গান। আটচল্লিশে গণসঙ্গীতের মাধ্যমে চলছিল আন্দোলন। যদিও ভাষার গানগুলো জনপ্রিয়তা পায় রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারির পরেই। 

ভাষা সৈনিক গাজিউল হকের একাত্তরের স্মৃতিচারণ ও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কলিম শরাফীর স্মৃতিচারণ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম গান রচিত হয় ১৯৪৮ সালে। গানটির গীতিকার ছিলেন অধ্যাপক আনিসুল হক চৌধুরী। গীতিকার ছাড়াও কবি হিসেবে পৃথক পরিচিতি ছিল। গানটিতে সুর করেন আনিসুলের বন্ধু ও গণসঙ্গীতশিল্পী শেখ লুৎফর রহমান। গানটির কথা ছিল এমন- 'শোনেন হুজুর/বাঘের জাত এই বাঙালেরা/জান দিতে ডরায় না তারা/তাদের দাবি বাংলা ভাষা/আদায় করে নেবে ভাই।'

১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তোর পাস করা আনিসুল হক ছাত্রজীবনেই কবি ও গীতিকার হিসেবে সুপরিচিত। সে সময় তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে লিখেছেন। ষাটের দশকে তিনি ছিলেন ঢাকা বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার। ভাষা নিয়ে আটচল্লিশের দিকে গণসংগীতশিল্পী শেখ লুৎফর রহমানকে তিনি নিজের লেখা দু'টি গান দিয়েছিলেন। তার 'ভাই রে ভাই, বাংলাদেশে বাঙালি আর নাই', 'ঘুম ঘুম শুধু ঘুম পাড়ানি গান আজ নয়', 'সাগর পাড়ের দেশ, আমাদের হাজার নদীর দেশ' এসব গান শ্রোতাদের মন ছুঁয়েছিল বেশ।

মরমী শিল্পী আবদুল আলীমের গাওয়া রূপালী নদী রে, রূপ দেইখা তোর হইয়াছি পাগল, ময়নামতির শাড়ি দেব, গয়না দিব গায়- সব ক'টি গানই আনিসুল হকের লেখা। বেশকিছু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের গানও লিখেছেন তিনি। আনিসুল হক চৌধুরীর লেখা বেশ ক'টি গবেষণাধর্মী বই লিখেছেন। এর মধ্যে বাংলার মুখ, গানের বই গানের ভরে মন এবং প্রবন্ধ নিশি ভোরের ফুল বোদ্ধামহলে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এসজে/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়