• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

ভাষা থেকে সৃষ্ট শিল্প-সংস্কৃতি

মিথুন চৌধুরী
|  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৫৬ | আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:৫০
প্রতিটি গোত্রের নিজস্ব ভাষা থাকে। নিজস্ব কথোপকথন এবং যোগাযোগের মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ হয়। আর তা থেকে তৈরি হয় সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি।

৭ম শতাব্দীতে লেখা বৌদ্ধ দোহার সঙ্কলন চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত। মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় কাব্য, লোকগীতি ও পালাগানের প্রচলন ঘটে।

ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে বাংলা কাব্য ও গদ্যসাহিত্যের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ বাংলা ভাষায় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

আধুনিক সাহিত্যিকদের মধ্যে আল মাহমুদ, হুমায়ূন আহমেদ খুব বেশি জনপ্রিয়। এছাড়া ছোটদের কাছে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, রকিব হাসান, খুব জনপ্রিয়।

অন্যান্য প্রধান ধারার সাহিত্যিকদের মধ্যে কাজী আনোয়ার হোসেন, কবি শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ প্রমুখ জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।

সঙ্গীতে যন্ত্রসঙ্গীতের ভূমিকা বাংলাদেশের সামান্য। গ্রাম বাংলার লোক সঙ্গীতের মধ্যে বাউল গান, জারি, সারি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মুর্শিদী, গম্ভীরা, কবিগান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
গ্রামাঞ্চলের এই লোকসঙ্গীতের সাথে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে মূলত একতারা, দোতারা, ঢোল, বাঁশি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

দেশের গ্রামাঞ্চলে যাত্রা পালার প্রচলন রয়েছে। উপজাতীয় নৃত্য, লোকজ নৃত্য, শাস্ত্রীয় নৃত্য উল্লেখ্য।

বাংলাদেশের রান্নার ঐতিহ্যের সঙ্গে ভারতীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের রান্নার প্রভাব রয়েছে। ভাত, ডাল ও মাছ বাংলাদেশিদের প্রধান খাবার। যে জন্য বলা হয়ে থাকে মাছে ভাতে বাঙালি। তেল-চর্বিজাতীয় মসলাযুক্ত রন্ধনপ্রণালী এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্যতালিকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বাংলাদেশের নারীদের প্রধান পোষাক শাড়ি। অল্পবয়স্ক মেয়েদের মধ্যে, শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সালোয়ার কামিজেরও চল রয়েছে।  বিশেষ অনুষ্ঠানে পুরুষরা পাঞ্জাবী-পায়জামা পরিধান করে থাকেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি বাংলাদেশি পুরুষদের অন্যতম অনুষঙ্গ। এছাড়া নিজস্ব ডিজাইনের কাপড় ও জামদানী, নকশী কাঁথা, মসলিন তো রয়েছেই।   

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়ের ঈদুল ফিত্‌র , ঈদুল আজহা ও ঈদে মিলাদুন্নবী। তবে হিন্দু’রা দুর্গা পূজা, বৌদ্ধ’রা বুদ্ধ পূর্ণিমা, আর খ্রিস্টান’রা বড়দিন পালন করে ঘটা করে। এসব অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে উৎসব উদযাপন করে থাকে। এছাড়া নবান্ন, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত বাঙালিরা আদিকাল থেকে উদযাপন করে আসছে।

এমসি/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়