• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

ঋণে ছাপানো হয় বই

মিথুন চৌধুরী
|  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৩০
বই মেলা প্রাণের মেলা। এটাই সবাই অকপটে স্বীকার করবে। কিন্তু লেখক ও পাঠকের মধ্যে ভিন্নতা হচ্ছে পাঠক জমা করে নয়তো শখের মাঝে বই কিনে। লেখকরা স্বীকৃতির পরিবর্তে কাজের উল্টো ঋণের দায় মাথায় নিয়ে বই বের করে। যদি মেলায় বই বিক্রির অদক্ষতা ও প্রচারণার অভাবে বই কেনা-বেচা না হয় তাহলে বছর জুড়ে লোনের সুদ টানতে হয় লেখক ও প্রকাশকদের।

প্রবীণ কয়েকজন লেখক এ বিষয়ে বলেন, লেখক ও কবি মনের ক্ষুধা মেটায়। আর সমাজের নানা চিত্র তুলে ধরেন। প্রচার করেন দেশ ও ঐতিহ্যের। বেশিরভাগ লেখক ও কবি নিজেকে তিলে তিলে বিসর্জন দেন। আর্থিকভাবে বেশিরভাগই সাধারণ জীবন যাপন করেন। বর্তমান বাজারে কালি ও প্রিন্টিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক বুনিয়াদি লেখক ও প্রকাশক বই ছাপাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই রীতিমত বাধ্য হয়ে ব্যাংকের পেছনে ছুটতে হয়। ব্যাংকের কয়েক টেবিল ডিঙ্গে বই ছাপাতে হয়। তবুও বই ছাপানো হলে মুখে মলিন হাসি ফুটে লেখক ও কবির। কিন্তু বই বিক্রি করে লোনের টাকা উঠানো না গেলে তাদের অবস্থা গুড়েবালিতে রূপ নেয়।    

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলো প্রকাশকদের বই প্রকাশের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

যা ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসায় সহায়তার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ফান্ড’ নামক তহবিল থেকে দেয়া হয়। এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হয়। প্রকাশকদের জন্য ২০১৩ সালে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফান্ডের নীতিমালা সংশোধন করেন।

এ তহবিলের আওতায় পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ ঋণ বিতরণ করে। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংক তহবিল থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ দিতে পারে।

তবে এ তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে বই প্রকাশ করা হলে বইয়ের উপযুক্ত স্থানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় অর্থায়িত’কথাটি সৌজন্যমূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এমসি/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়