• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

প্রভাতফেরি ফিরিয়ে দিন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:২৬ | আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:০৭
শহীদ দিবস উপলক্ষে আবেগদীপ্ত মিছিল ও স্লোগান এবং গানের ঐতিহ্যবাহী কালক্ষণের প্রভাতফেরি ফিরিয়ে দিন। এ দাবি জানালেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক।

রোববার বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ফেসবুকের গ্রুপ ডেসপারেটলি সিকিং এক্সপ্লিসিট- ডিএসই’র ঢাকার রাস্তায় ভুল বানান সংশোধনের আয়োজন ‘বর্ণ নিয়ে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শহীদ দিবস পালনের সেই যে মহিমান্বিত প্রথা চালু, সূর্যহীন ভোরের স্নিগ্ধ মৃদু বাতাসে ভাষিক আবেগের ফুলঝুরি ছড়িয়ে খালি পায়ে প্রভাতফেরি আজিমপুর কবরস্থানে শহীদ সমাধিতে পুষ্পিত শ্রদ্ধা ও আবেগের প্রকাশ, তা ঐতিহ্যে পরিণত হয়। 
শোকার্ত আবেগ, প্রতিবাদী আবেগই ছিল সেক্ষেত্রে মূল অভিব্যক্তি। সে আবেগের প্রকাশ এতটা শক্তিমান ছিল যে তা ১৯৫৫-এর ফেব্রুয়ারিতে ৯২-ক ধারার শাসকের রক্তচক্ষু ও দমননীতি উপেক্ষা করে স্লোগান তোলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।

তিনি আরো বলেন, এমনকি চেষ্টা ছিল প্রভাতফেরির এবং পরে প্রতিবাদী সভার। কিন্তু পুলিশি বেড়াজালে তা সম্ভব হয়নি। পূর্ববঙ্গে তরুণদের দেখা গেছে শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রভাতফেরিতে আবেগ ছড়িয়ে দিতে। অন্যদিকে রাজনীতিবিদরা দিনটি পালন করেছেন প্রধানত বিকেলে ময়দানে জনসভা করে। সে জনসভার বিশালত্ব প্রমাণ করে শহীদ দিবসের জনপ্রিয়তা।

তিনি বলেন, অবাক হই ভেবে, দুঃখ পাই ভাবতে গিয়ে যে যারা একুশের চেতনার অংশীদার ছিলেন, তারাই তরুণদের প্রাণের প্রথা প্রভাতফেরিটির মৃত্যু ঘটালেন। বাঙালি প্রথায় দিবস শুরুর প্রভাতি ঐতিহ্য অস্বীকৃত হলো। দিনের সূচনা প্রভাতের বদলে হয়ে উঠল মধ্যরাতে, খ্রিস্টীয় দিন ও বর্ষের হিসাবমাফিক। প্রভাতফেরির জায়গা দখল করে নিলো মধ্যরাতের পরবর্তী ক্ষণ। এটা মূলত রাজনীতিকদের কল্যাণে।

আহমদ রফিক ছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক কবি ড. আমিনুর রহমান সুলতান, জেবিন ইসলাম, বিথী হক, সায়মা জামান তিশা, আফরা সামাদি সারীকা, অন্তর মাশঊদ, আরিফ হোসেনসহ স্বেচ্ছাসেবকরা এতে যোগ দেন।

ডিএসই ২১শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পর্যায়ক্রমে ভুল বানানের সাইনবোর্ড, গুরুত্বপূর্ণ ব্যানার ও ফলকের সংশোধনের কাজ করবে। সভায় গ্রুপের অ্যাডমিন ইমন খান বলেন, ঢাকাকে ১০ টি ভাগে ভাগ করে ভলান্টিয়ারদের দিয়ে বানান সংশোধনের কাজ করা হবে।

সভা শেষে স্বেচ্ছাসেবকরা নীলক্ষেত, পলাশী ও আজিমপুর এলাকায় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দেয়াল লিখনের বানান সংশোধনের কাজ করেন।

ওয়াই/

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়