• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

মেলা জমছে

সিয়াম সারোয়ার জামিল
|  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২১:৩১
শুক্র ও শনিবার এমনিতেই মেলায় লেখক-পাঠকদের আগমন থাকে। রোববারও তার খুব একটা ব্যতিক্রম ঘটেনি। টানা ২ দিন ভিড়ের পর মেলা প্রাঙ্গণের পরিবেশ কিছুটা মন্থর হলেও পাঠকের আগমন ছিল চোখে পড়ার মত।

তবে প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা বললেন, রোববার মেলা প্রাঙ্গণে পাঠক আগমন বেশি থাকলেও পাঠকেরা বেশ যাচাই বাছাই করেই বই কিনছেন। মেলায় ঘুরে ঘুরে পছন্দের বইটি দেখেশুনেই নিচ্ছেন তারা।

সাহিত্যকথার কর্মী মোহাম্মদ আশিক জানালেন, 'আজকে এতো পাঠক হবে, এটা কল্পনার বাইরে ছিল। পাঠক বই দেখেছে বেশি। বিক্রিও বেশ।'

নির্ণায়কের সত্ত্বাধিকারী ফাইজুস সালেহীন বলেন, 'পাঠকদের আনাগোনা বেশ ভাল ছিল। বেচাকেনাও খারাপ না। এবার প্রথম থেকেই পাঠকদের আগমনটা বেশি। বেশ সন্তোষজনক। মেলা দ্রুত জমছে।' 

মেলার পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে শ্রাবণ প্রকাশনীর রবিন আহসান আরটিভি অনলাইনকে বললেন, গেলো ৪ দিনের বেচা কেনার পর রোববার মেলায় পাঠকের উপস্থিতি দেখার মত। শুক্র-শনির পর পাঠক একটু কম থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম। কর্মঘণ্টার দিনগুলোতেও পাঠক বেড়েছে।

মেলার গেট খোলে বিকেল ৩টায়। শান্ত সৌম্য চেহারা নিয়ে মেলা অনেকটা আদর ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। পাঠকরা মুগ্ধ চোখে সে রূপ দেখে। সড়ক দ্বীপে কিংবা ডিভাইডারে বসে চলে আড্ডা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারপর সময় বুঝে টুপ করে কিনে আনা পছন্দের বইটি।

মেলায় আজ (রোববার)নতুন বই এসেছে ২৭টি। গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আহসান হাবীব জন্মশতবর্ষ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি তুষার দাশ। আলোচনায় অংশ নেন ড. অনু হোসেন ও ড. তারেক রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জুলফিকার মতিন।

শতবর্ষী এক ফলদ বৃক্ষের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সৃজনশীলতার বয়ান শিরোনামের প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রাবন্ধিক বলেন, আহসান হাবীব কবি, শতবর্ষী এক ফলদ বৃক্ষই যেনো। তাঁর শতবর্ষ হয়ে গেলো, তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো যেনো ধীরে ধীরে আরো বেশি আলোপ্রদায়ী একেকটি পরশপাথরে পরিণত হতে চলেছে।

আলোচকরা বলেন, আহসান হাবীব যেমন তাঁর সময়ের সন্তান এবং তেমনি তিনি সময় থেকে এগিয়েও ছিলেন। দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, স্বাধীনতার সংগ্রাম, ক্ষুধা ও আশা ইত্যাদি সব সমসাময়িক অনুষঙ্গ আহসান হাবীব তাঁর কবিতায় সুনিপুণ শিল্প দক্ষতায় তুলে ধরেছেন। প্রেমের কবিতাতেও আহসান হাবীব অসামান্য।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক জুলফিকার মতিন বলেন, আহসান হাবীব কবি হিসেবে অনন্যসাধারণ।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সালমা আকবর, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, লাইসা আহমেদ লিসা, অণিমা রায়। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), মো. হাসান আলী (বাঁশি), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড) এবং নাজমুল আলম খান (মন্দিরা)।

 

এসজে/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়