• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

তীর্থস্থানে বইপোকাদের কলরব

মিথুন চৌধুরী
|  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৪৬
বইমেলা যেনো বই পোকাদের তীর্থস্থান। তাই শুরু হতে না হতেই দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাঠকরা ছুটে আসছেন মেলা প্রাঙ্গণের ধুলো ছুঁতে। আর বই লেখক ও কবিদের সঙ্গে দেখা করতে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। মেলার পঞ্চম দিনে প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্র দেখাগেছে।

বইপোকাদের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে বসছে কবি-লেখকদের হাট। নতুন বইয়ের গন্ধ ছড়াচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণে। খুটে খুটে পছন্দের লেখকের বই কিনছেন পাঠকরা। পাশাপাশি নতুন লেখকের বইয়ে ঢু মারছেন। তাতে প্রাণের তৃষ্ণা মিটলে নিজের সংগ্রহে নিতে মুহুর্তের জন্য দেরি করছেন না।

তাই পাঠকদের কথা চিন্তা করে গেলোবারের মতো এবারো বইমেলায় কয়েক হাজার নতুন বই এবং লক্ষাধিক পুরোনো বই আসছে। বাহারি শৈল্পিক রং ঢং মেখেও আলোচিত কবি ও লেখকদের বই বাজারে আনছে প্রকাশনীগুলো।

বাংলা একডেমির মূল প্রাঙ্গণ ও বর্ধিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাঠকদের কোলাহলে রবরব পরিবেশ বিরাজ করছে। বইমেলা প্রাঙ্গণজুড়ে ছেঁয়ে গেছে নতুন প্রকাশিত বইয়ের প্রচার-প্রচারণা সম্পর্কিত লিফলেট। বিশেষ করে নতুন লেখকরা নিজেরাই পাঠকদের নিকটে গিয়ে বই পড়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে আবুল হাসনাতের সম্পাদনায় আসছে কাইয়ুম চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ। আসছে নাসরিন জাহানের দুটি উপন্যাস। আহমাদ মোস্তফা কামালের উপন্যাস সবচেয়ে সুন্দর করুণ। হায়াৎ মামুদের বই ফাদার সিয়ের্গি। মঈনুস সুলতানের বই পুষ্পিত ফরাশ ও বেগুনি জ্যোৎস্না। আবুল মোমেনের ভূমিকাসহ নির্বাচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের সংকলন বিংশতি। আসছে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের উপন্যাসিকা সুখবাস।

আগামী প্রকাশনীর নতুন বইয়ের তালিকায় রয়েছে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচিত প্রবন্ধ। রফিকুল ইসলামের ঢাকার কথা।

আহমদ শরীফের রোজনামচা ভাব-বুদ্বুদ। আসছে ফরিদ কবিরের আত্মজীবনীমূলক বই, আমার গল্প। উপন্যাস থাকছে হাসনাত আবদুল হাইয়ের সময় অসময়।

অন্যপ্রকাশ থেকে হুমায়ূন আহমেদ রচনাবলী নবম ও দশম খণ্ড থাকছে মেলায়। সৈয়দ শামসুল হকের শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট অনুবাদ।

সময় প্রকাশনা থেকে আসছে ফরিদ আহমেদের প্রকাশকনামা ও হুমায়ূন আহমেদ, এছাড়া থাকছে আবদুল মান্নান সৈয়দের নির্বাচিত কবিতা, মুনতাসীর মামুনের উনিশ শতকের পূর্ববঙ্গের থিয়েটার ও নাটক। থাকছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আমাদের বিপন্ন পরিবেশ ও আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট শিল্পব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের বেলা অবেলা সারাবেলা: তৃতীয় খণ্ড, আনিসুল হকের প্রিয়তমা, তোমাকে।

মাওলা ব্রাদার্সের উল্লেখযোগ্য বইয়ের ভেতর থাকছে সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস সীমানা ছাড়িয়ে, গল্পগ্রন্থ রক্তগোলাপ এবং সেলিনা হোসেনের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ।

বরাবরের মতো এবারো বৈচিত্র্যময় এবং ভিন্ন স্বাদের প্রায় ৭০টি বইয়ের ভাণ্ডার নিয়ে আসছে ঐতিহ্য প্রকাশনী।

বঙ্গবন্ধুর শতাধিক ভাষণ থেকে বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ ৬৭টি ভাষণ শ্রুতিলিপিরূপে প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য। এটি নিঃসন্দেহে এবারের বইমেলার গুরুত্বপূর্ণ বই।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিশেষ আকর্ষণ হুমায়ূন আহমেদের মা আয়শা ফয়েজের স্মৃতিচারণামূলক বই শেষ চিঠি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন রিটিন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ৬৪ জেলার কিশোর ইতিহাসের বই ৬৪ খণ্ডে প্রকাশ করছে এই প্রতিষ্ঠান।

অনন্যা প্রকাশ করছে ইমদাদুল হক মিলনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় মাস, ফরিদুর রেজা সাগরের দুটি বই চেনা মানুষের মুখ ও প্রিয় বাবার মুখ এবং হাসান ফেরদৌসের নিউইয়র্কের খেরোখাতা।

বাংলা একাডেমির মূল চত্বর ও একাডেমি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে সজ্জিত করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তৈরি করা হয়েছে শিশু কর্নার। ৬০ ইউনিট নিয়ে এ চত্বরে শিশুদের জন্য খেলার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারো প্রতি শুক্র ও শনিবার থাকবে শিশু প্রহর। এ বছরও বাংলা একাডেমি ৩০ শতাংশ ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করবে। 

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। ছুটির দিন মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। এছাড়া শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারির দিন এটি উন্মুক্ত থাকবে সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। 

এমসি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়