• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

বাংলা ভাষার গোড়া

মিথুন চৌধুরী
|  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:০৭ | আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:৩২
মানুষের জন্মলগ্ন থেকেই ভাষার অস্তিত্ব আবিষ্কার করা যায়। ভাষার হাতে খড়ি হচ্ছে মা। তাই জন্মের পর থেকে শেখা ভাষাকে বলা হয় মাতৃভাষা। এরপর প্রাকৃতিক ও সামজিকভাবে মানুষ শিখে নেয় ভাষা। তাই প্রত্যেক ভাষার গোড়াপত্তন রয়েছে। তেমনি বাংলাভাষারও রয়েছে এতিহ্যবাহী গোড়াপত্তন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিশ্বের যাবতীয় ভাষার উৎপত্তি হয়েছে যে কয়েকটি মূল ভাষা থেকে তাদের মধ্যে ইন্দো-ইউরোপীয় বা হিন্দ–ইউরোপায়ন বা আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী অন্যতম। আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৫০০০ বছর পূর্বে মধ্য এশিয়ায় এ ভাষা গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এই মূল ভাষা গোষ্ঠীর দুটি বিভাগ ছিল একটি কেন্তুম আর অপরটি শতম। কেন্তুম বিভাগের সাথে বাংলা ভাষার কোন প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। তবে শতম থেকে উৎপন্ন ‘আর্য’ শাখার ‘প্রাচীন ভারতীয় আর্য’ উপশাখা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।

মধ্য এশিয়া অঞ্চল থেকে একটি দল পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ইন্দো ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর এক দল ভারতে প্রবেশ করে। তাদের ভাষা ‘আর্য ভাষা’ রূপে পরিচিত ছিল। আনুমানিক ১৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকেই আর্যরা ভারতবর্ষে আসতে শুরু করে। তারা ছিল বৈদিক ভাষা ও দেব-বন্দনা মূলক সাহিত্যিক ভাষার ধারক।কালক্রমে এ ভাষা অনার্য ভাষা গোষ্ঠীর সাথে মিশ্রণের ফলে ভৌগোলিক নানা প্রভাবে ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করে। এ অবস্থায় আর্যদের বৈদিক ভাষায় সংস্কার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ৮ম শতক থেকে এ প্রচেষ্টা চলে। আর ‘পানিনী’ নামক বৈয়াকরণিক ‘অষ্টাধ্যায়ী’ ব্যাকরন গ্রন্থে এ ভাষার নিয়ম-নীতি রূপদান করার চেষ্টা করেন। সংস্কারজাত এ নতুন ভাষা হল ‘সংস্কৃত’। তবে এ ভাষা তথাকথিত অভিজাত শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ লোকের মুখের ভাষা তো আর শাসন করা যায়নি। এসব ভাষা কে বলা হয় ‘আদিম প্রাকৃত’ ভারতীয় আর্য ভাষা। এ ভাষা গুলোতে সাধারণ মানুষেরা কথা বলত। বেদ রচিত হয় আর্য ভাষায়, তাই এ ভাষাকে বৈদিক ভাষাও বলে। সময়কাল ১২০০ থেকে ৮০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ। যে ভাষাটি সাধারন মানুষের ভাষা রূপে পরিণত হয় সেই ভাষার কয়েকটি রূপের মধ্যে একটি প্রাচীন প্রাচ্য। প্রাচীন প্রাচ্য থেকে মূল ভাষাটি ক্রমশ অগ্রসর হয়ে বাংলার দিকে চলে আসে। এই যুগে পশ্চিম থেকে আগত আর্য জাতির সাথে কোল জাতির সংস্রব ঘটে। বাংলার আদিম অধিবাসী কোল জাতি আর্য ভাষা ও সংস্কৃতি গ্রহন করে। বাঙ্গালী কোল জাতির ভাষা এবং আর্য ভাষা উভয়ের সংমিশ্রণে বাংলা ভাষার গোড়াপত্তন হয়।

এমসি/এসজেড

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়