• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

বইমেলা ঘিরে ছাপাখানায় ব্যস্ততা

মিথুন চৌধুরী
|  ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:১২ | আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, ২১:০৯
মাঘ মাসের আর ক’টা দিন বাকি। এর মাঝে উঁকি দিচ্ছে বসন্ত। তার সঙ্গে রং মাখাতে প্রতিবারের মতো এবারো ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে প্রাণের মেলা। আর এ মেলাকে ঘিরে বই ছাপাখানায় বিরাজ করছে রবরব পরিবেশ। বই ছাপা সংক্রান্ত নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাসব্যাপী বইমেলা হয়ে উঠবে পাঠক-লেখকদের মিলন মেলা। সেখানে হাজারো পাঠকের হাতে দিতে হবে প্রিয় বই। মহাযজ্ঞ সেই আয়োজনের প্রস্তুতিতেই যেনো ঘুম হারাম ছাপাখানার হাজারো কারিগরের। ফুরসত নেই প্রকাশক, প্রচ্ছদশিল্পীদেরও। বইকে দৃষ্টিনন্দন ও অনিন্দ্য সুন্দর করে তুলতে তারাও দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

শনিবার দুপুরে একুশে বইমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির নিচতলার ছাপাখানায় ঢুকেই এমন চিত্র দেখা গেলো। চোখে পড়ে বইয়ের ফর্মার রাশি রাশি স্তূপ। খটখট আওয়াজে ছাপার কাজও চলছে পুরোদমে। যেনো বিশ্রাম নেয়ার সময় নেই শ্রমিকদের।

কারিগর মান্নান জানান, বইমেলাকে কেন্দ্র করে জানুয়ারির শুরু থেকে দ্বিগুণ মাত্রায় ব্যস্ততা বেড়েছে। বইমেলা শুরু হবার পরও এ ব্যস্ততা চলবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেলাকে ঘিরে কয়েক মাস আগে থেকেই বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে নীলক্ষেত, কাঁটাবন, আরামবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছাপাখানাগুলোতে। যদিও পুরান ঢাকার বাংলাবাজারই এর আসল ঠিকানা। এখানেই গড়ে উঠেছে শত শত ছাপাখানা। তৈরি হয়েছে বাঁধাইখানাও। 'বই বাজার' হিসেবে পরিচিত পুরো এ এলাকাই এখন কম্পোজ, প্রুফ, পেস্টিং, প্লেট, ফাইনাল- শব্দে মুখর। ছুটি বাতিল করে বইয়ের কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিটি ছাপাখানায়। কারখানা সংলগ্ন কম্পোজের দোকানগুলোর ব্যস্ততা এখন চরমে, যেনো কথা বলার সময়টুকু নেই কারো। ছাপা ও বাঁধাই ও নান্দনিক মোড়ক লাগানোর পর এসব কর্মচারির হাত থেকেই বই চলে যাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়।

বই বাজার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটানো মাহমুদ প্রিন্টার্সের মালিক কলিম সরকার জানান, বইমেলা শুরু হবার অন্তত ২-৩ মাস আগে বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দেয় ছাপাখানাগুলোতে। সে অনুপাতেই বই তৈরির কাজ শুরু হয়। এসময় বইয়ের মলাট তৈরি ও বাঁধাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যস্ততাও বেড়ে যায়।

বইমেলার বই ছাপার কাজ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় হলেও বাংলাবাজারই কেন্দ্রবিন্দু। এখানে গড়ে উঠেছে অনেক বাঁধাইখানাও। এসব ছাপা ও বাঁধাইখানায় প্রস্তুত বই নতুনের ঘ্রাণ নিয়ে চলে যাবে একুশে বইমেলায়। 

বাংলাবাজারের শিরিশ দাস লেনের ঢাকা প্রিন্টার্সে দেখা গেলো দুটি মুদ্রণযন্ত্রই নতুন বই ছাপার কাজে ব্যস্ত। রঙের ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া গেলো সেখানে ঢুকেই। একপাশে ছাপা ফর্মা স্তূপ করে রাখা।

কর্মী রিপন হোসেন বলেন, বইমেলা উপলক্ষে এখন অনেক ধরনের কাজ করতে হচ্ছে। দিন-রাত কাজের ব্যস্ততা থাকে। কাজের চাপে ঠিকমতো বিশ্রাম নেয়া বা খাবার সুযোগও পাওয়া যায় না।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আমিন খান জানান, এখন প্রায় ২৪ ঘণ্টাই বই ছাপার কাজ চলছে। বই ছাপার কাজ মূলত শুরু হয়েছে নভেম্বর মাস থেকে। এখন থেকে বইমেলার সারা মাস পর্যন্ত পুরোদমে কাজ চলবে।

এসব ছাপাখানার ব্যবসাটা মূলত বইমেলাকেন্দ্রিক বলে এসময়ই সেগুলো বেশি ব্যস্ত থাকে। আল-ফয়সাল প্রিন্টার্সের মুদ্রণযন্ত্রের কর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বই ছাপার কাজ এক ধরনের নেশার মতো। মেলার আগে চাপ থাকে বলে অনেক পরিশ্রম হয়। তবুও বই সারাদেশের পাঠকদের হাতে পৌঁছে দিতেই আমাদের আনন্দ।

এদিকে, বইয়ের ধরনের সঙ্গে মিল রেখে প্রচ্ছদ তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে ব্যস্ত সময় পার করছেন বইয়ের নান্দনিকতার নায়ক প্রচ্ছদশিল্পীরা। তারা জানান, প্রচ্ছদ বইয়ের আয়না। এখানেই পুরো বইয়ের মর্মার্থ ফুটে ওঠে। তাই কাজটা সময়সাপেক্ষ।

তরুণ প্রচ্ছদশিল্পী হাসান আতিক বলেন, এবারের বইমেলায় ৫টি বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরির কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যে ৩টি শেষ, বাকি ২টি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে শেষ করলেও চলবে।

তিনি বলেন, প্রচ্ছদ একদিকে যেমন বইকে আকর্ষণীয় করে। অপরদিকে তা পাঠককে কাছে টেনে আনে। অপরিহার্য এ কাজটিই করেন প্রচ্ছদশিল্পীরা।

বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, ৩০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বইমেলার আদ্যোপান্ত জানানো হবে। ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা পাবে।

এমসি/ডিএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়